বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি করেছে। নয় মাসের দীর্ঘ আলোচনার পর এই চুক্তি শেষ হয়েছে। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রে পারস্পরিক শুল্ক ১৯ শতাংশ ধার্য হবে। আগেই ১৫ শতাংশ স্বাভাবিক শুল্ক থাকায়, মোট শুল্ক হার দাঁড়িয়েছে ৩৪ শতাংশে। স্থানীয় সময় সোমবার রাতে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে, যা প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর নিশ্চিত করেছে। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানিয়েছেন, রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত স্বাক্ষর হয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেন দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ) রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার। এর আগে সোমবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই চুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়। উভয় পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারির পর চুক্তিটি কার্যকর হবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার বাংলাদেশের আলোচক দলকে তাদের অসাধারণ প্রচেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির সঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থান আরও উপযোগী করবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র অঙ্গীকার করেছে, বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিকৃত নির্দিষ্ট বস্ত্র ও পোশাকপণ্যের ক্ষেত্রে—যাতে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা বা কৃত্রিম তন্তু ব্যবহৃত হবে—শূন্য পারস্পরিক শুল্ক সুবিধা চালু করা হবে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর বাংলাদেশের পক্ষে আলোচনার নেতৃত্বদানকারী বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক একটি ঐতিহাসিক নতুন স্তরে পৌঁছাল। তিনি বলেন, ‘এই চুক্তি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের জন্যই একে অপরের বাজারে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে শুল্ক হারে পরিবর্তন আনেন। ৩৭ শতাংশ থেকে তা কমিয়ে প্রথমে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়, যা ৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়। সর্বশেষ সোমবার রাতে আরও ১ শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান আলোচক ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, পারস্পরিক শুল্ক হ্রাস রপ্তানিকারকদের জন্য আরও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দেবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি নির্দিষ্ট বস্ত্র ও পোশাকপণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা বাংলাদেশের পোশাক খাতে গতি বৃদ্ধি করবে।
