বহুজাতিক সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের বাংলাদেশ শাখায় ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) বেশিরভাগ শীর্ষ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। মাইক্রোসফট বাংলাদেশের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশ থেকেও অফিস সরিয়ে নেওয়া হতে পারে কিনা, তা নিয়ে কোম্পানির উচ্চ পর্যায়েও শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ হতে মাইক্রোসফট অফিস গুটিয়ে নেয়া হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নে মাইক্রোসফট বাংলাদেশের এমডি মো. ইউসুপ ফারুক জানান, ‘অনেক কিছুই শোনা যায়। আমিও ইন্টারন্যালি অনেক কিছু শুনেছি। কিন্তু বাস্তবতা আমাদের অপারেশন কন্টিনিউ হচ্ছে এখনও। এখন কতদিন কন্টিনিউ হবে, কবে বন্ধ হবে-আই ডোন্ট হ্যাভ অল দিস ক্লারিটি।’
চাকরিচ্যুতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এগুলো গ্লোবাল মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তাদের মধ্যে নিয়মিত রি-অর্গানাইজেশন হয়। এটা নতুন কিছু নয়।’ পাকিস্তানে মাইক্রোসফট অফিস বন্ধ হওয়া নিয়ে প্রশ্ন করলে মো. ইউসুপ ফারুক বলেন, ‘পাকিস্তানের বিষয়টি সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত জানি না। তবে এখানে আমাদেরও অপারেশনাল এবং পলিসি সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির জন্য নিয়মিত সমস্যা হয়ে থাকে।’ মাইক্রোসফট যদি বাংলাদেশ থেকে চলে যায়, তাহলে সেটি দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য খারাপ সংবাদ হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই এটা সত্যি এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই। শুধু মাইক্রোসফটই নয়, যদি কোনো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে বের হয়ে যায়, তা আমাদের দেশের জন্য নিশ্চিতভাবেই খারাপ খবর।’
১৯৮৯ সালে মাইক্রোসফট একটি স্থানীয় কোম্পনির সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তবে ২০০৪ সালের শেষের দিকে মাইক্রোসফট নিজের সাবসিডিয়ারি অফিস হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে। মাইক্রোসফট বাংলাদেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের বাংলাদেশে প্রায় ২৫ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা ছিল। গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশের অফিস ভারতের সাবসিডিয়ারির আওতায় পরিচালিত হতো। এর আগে এটি সিঙ্গাপুর অফিসের অধীনে ছিল।
