দেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ বর্ষীয়ান নেতা ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তোফায়েল আহমেদের পরিবার থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদ্রোগ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ বাদ মাগরিব রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষণ করা হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার মরদেহ ভোলায় নেওয়া হবে এবং সেখানে জোহরের নামাজের পর ভোলা জিলা স্কুল মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা জেলার সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে তোফায়েল আহমেদের জন্ম। বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ (বিএম) থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন।
১৯৬৮-৬৯-এর উত্তাল সময়ে তোফায়েল ছিলেন ডাকসুর ভিপি। সে হিসেবে তিনি সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে তিনি ছাত্রসমাজের নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন তোফায়েল। স্বাধীন বাংলাদেশে ৯ বার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। সর্বশেষ তিনি ভোলা-১ আসনের এমপি ছিলেন। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে পরে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন তোফায়েল আহমেদ। সর্বশেষ তিনি আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।
