বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্যারাবন কেটে চিংড়ি ঘের

কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে সমুদ্র উপকূলঘেঁষা চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের পশ্চিম অংশে প্যারাবন কেটে চিংড়ি ঘের গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সেখানে অন্তত পাঁচ হাজার বাইন ও কেওড়া গাছ কেটে প্রায় ২০ একর সরকারি জমি দখল করা হয়েছে। স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র গত কয়েক দিন ধরে এ পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলেও বন বিভাগের পক্ষ থেকে এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজার উপকূলীয় বন বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই প্যারাবন ধ্বংসের এই কাজ চলছে।

বন বিভাগের সূত্র জানায়, প্যারাবন বা ম্যানগ্রোভ বনের গুরুত্ব অত্যন্ত বড়। এটি উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ—যেমন ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস—থেকে রক্ষা করে। এছাড়া বনের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ হয়, ভূমিক্ষয় রোধ হয় এবং স্থানীয় অর্থনীতি ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে। প্যারাবন উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে কাজ করে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমিয়ে স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করে।

গতকাল বুধবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া এলাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রয়েছে বাইন ও কেওড়া গাছ সমৃদ্ধ প্যারাবন। বনের প্রায় ২০ একর জায়গা দখল করে চতুর্পাশে সীমানা বাঁধ দেওয়া হয়েছে। দখলকৃত জায়গায় থাকা প্যারাবনের অন্তত পাঁচ হাজার বাইন ও কেওড়া গাছ কাটা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, চিংড়ি ঘের তৈরির জন্য গত রোববার থেকে গাছ কাটা এবং সরকারি এ জমি দখলের কাজ চলছে। স্থানীয় শাহজাহান, আবুল কাশেম ও মোহাম্মদ শাহজাহানের নেতৃত্বে একটি ভূমিদস্যু চক্র এ কাজটি করছে। গাছ কাটার খবর পেয়ে রোববার উপকূলীয় বন বিভাগের পোকখালী বিট কর্মকর্তা মৃনাল ভাওয়াল পরিদর্শন করেন। পরে ভূমিদস্যু চক্রটি বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা ও রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে। ফলে চার দিনেও বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই অভিযোগ অস্বীকার করে মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি কোনোভাবেই জড়িত নই। এমনকি, আমার কোনো চিংড়ি ঘের কিংবা লবণ মাঠ নেই।’

কক্সবাজারভিত্তিক পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটি (ইয়েস) কক্সবাজারের চেয়ারম্যান মুজিবুল হক বলেন, চৌফলদন্ডী এলাকার প্যারাবন বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে উপকূল ও উপকূলীয় বাসিন্দাদের রক্ষা করে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি যেভাবে চিংড়ি ঘের তৈরির জন্য এ বন ধ্বংস করা হচ্ছে, তা ভয়াবহ অশনিসংকেত। তাই এ ঘটনায় জড়িত বন কর্মকর্তাসহ সবার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, না হলে বন ধ্বংসে অন্যান্য লোকজনও আরও বেশি উৎসাহিত হবে।

This will close in 5 seconds