** মোডিস্ট বাংলাদেশের ২০২০-২০২২ পর্যন্ত ৩৪টি অপ্রত্যাবাসিত পিআরসির বিপরীতে প্রায় ২৯ কোটি টাকার বিচারাদেশ রয়েছে
** জেএমএস গ্রুপের জেএমএস গার্মেন্টস বন্ড সুবিধার ১৩৭৯৭ মেট্রিক কাঁচামাল বিক্রি করে দিয়ে ৫৮৫ কোটি টাকা শুল্ককর ফাঁকি দিয়েছে
বন্ড সুবিধায় তিন বছরে আমদানি হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ৫৭৯ মেট্রিক টন কাঁচামাল। যার মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ কাপড়। এই কাঁচামালের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৮৫৮ মেট্রিক টনের কোনো হদিস নেই। এই কাঁচামাল দিয়ে কোনো পোশাক তৈরি না করে সরাসরি খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রায় ১৩৭ কোটি টাকা শুল্ককর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (সিইপিজেড) শতভাগ পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মোডিস্ট (বাংলাদেশ) লিমিটেডের বিরুদ্ধে বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের এই অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের নিরীক্ষায় এই বিপুল পরিমাণ শুল্ককর ফাঁকির তথ্য উঠে এসেছে। এনবিআর সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
সূত্রমতে, মোডিস্ট (বাংলাদেশ) লিমিটেড পুরুষ ও নারীদের শার্ট, জ্যাকেট এবং শিশুদের পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৯ সালে বন্ড লাইসেন্স পায়। প্রতিষ্ঠানটি ইতালি, চীন, ভারত, মালয়েশিয়া, জার্মানি, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, জাপান, শ্রীলঙ্কা ইত্যাদি থেকে বন্ড সুবিধায় কাপড়, এক্সেসরিজ ও প্যাকিং ম্যাটেরিয়াল আমদানি করে। প্রস্তুত করা পোশাক জার্মানি, গ্রেট ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, ল্যাটিন আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিরীক্ষা সম্পন্ন থাকলেও ২০২৫ সাল পর্যন্ত নিরীক্ষা করা হয়নি। সম্প্রতি চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড থেকে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নিরীক্ষা করা হয়। যাতে বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল অবৈধভাবে অপসারণের তথ্য উঠে আসে। প্রতিষ্ঠানের আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মোডিস্ট (বাংলাদেশ) লিমিটেড ২০২৩ সালে ১৮ লাখ ৬৯ হাজার ৪২ কেজি বিভিন্ন ধরনের কাপড়, এক্সেসরিজ ও প্যাকিং ম্যাটেরিয়াল আমদানি করেছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে ২০২২ সালের ২২ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬ কেজি কাঁচামাল মজুদ থাকার কথা। সে অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে কাঁচামাল থাকার কথা ৪১ লাখ ৫৭ হাজার ৪২ কেজি, যার মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি পোশাক তৈরিতে ব্যবহার করেছে ১২ লাখ ১৭ হাজার ৯৬২ কেজি। আর ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি বন্ড সুবিধায় ২৭ লাখ ৬ হাজার ৬৩ কেজি কাঁচামাল আমদানি করেছে। আগের মজুদ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিতে ৫৬ লাখ ৪৫ হাজার ২৮৯ কেজি কাঁচামাল থাকার কথা। ওই বছর পোশাক তৈরিতে ব্যবহার করেছে ১৫ লাখ ৫০ হাজার ৮২১ কেজি কাঁচামাল। রপ্তানি শেষে প্রতিষ্ঠানটি ৪০ লাখ ৯৪ হাজার ৪৬৮ কেজি কাঁচামাল থাকার কথা। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি কাঁচামাল আমদানি করেছে ৬ লাখ ৮২ হাজার ৩৬১ কেজি। ওই বছর পোশাক তৈরি ও রপ্তানিতে ব্যবহৃত হয়েছে ৫ লাখ ১২ হাজার ৮৪ কেজি কাঁচামাল।
দেখা গেছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিন বছরে মোডিস্ট মোট ১ কোটি ৪৫ লাখ ৭৯ হাজার ২০৮ কেজি বা ১৪ হাজার ৫৭৯ মেট্রিক টন কাপড়, এক্সেসরিজ ও প্যাকিং ম্যাটেরিয়াল বন্ড সুবিধায় আমদানি করেছে। এর মধ্যে ৩৮ লাখ ৫৮ হাজার ৫৮২ কেজি বা ৩ হাজার ৮৫৮ মেট্রিক টন কাঁচামালের কোন হিসাব পাওয়া যায়নি। এই কাঁচামালের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ১৫৬ কোটি টাকা, যাতে প্রযোজ্য শুল্ককর প্রায় ১৩৭ কোটি ৬২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। অবৈধভাবে এই কাঁচামাল খালাস করে খোলাবাজারে বিক্রি করায় প্রযোজ্য শুল্ককর আদায়ে মোডিস্ট (বাংলাদেশ) লিমিটেডকে দাবিনামা জারি করার সুপারিশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠানটির ২০২০-২০২২ সাল পর্যন্ত ৩৪টি পিআরসির বিপরীতে ২৯ কোটি ২৯ লাখ ৮৫ হাজার ৩২৪ টাকা দেশে প্রত্যাবাসিত হয়নি। যা নিয়ে বিচারাদেশ দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়, যা চলমান রয়েছে।
অপরদিকে, জেএমএস গ্রুপের মালিকানাধীন জেএমএস গার্মেন্টস লিমিটেডের বিরুদ্ধে ১৩ হাজার ৭৯৭ মেট্রিক টন বন্ড সুবিধার কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেট। এই কাঁচামালের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ৬৩৩ কোটি টাকা, যাতে প্রযোজ্য শুল্ককর প্রায় ৫৮৫ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (সিইপিজেড) মতো সুরক্ষিত জায়গায় থেকে বন্ড সুবিধার এই কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রি করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠান। এই নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোডিস্ট (বাংলাদেশ) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুস্তাফা মাহমুদকে ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। বক্তব্যের বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে লিখে দেওয়া হলে তিনি সিন করেন। তবে কোন জবাব দেননি। বক্তব্য জানতে প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র ম্যানেজার (কর্মাশিয়াল) মোহাম্মদ মুরাদ হোসেনকে ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। বক্তব্যের বিষয় হোয়াটসঅ্যাপে লিখে দেওয়া হলে তিনি সিন করেন। কিন্তু কোন জবাব দেননি।
** বন্ডের ৩৬৭০ টন কাপড়ের ২৮৮৩ টন-ই বিক্রি করে দিয়েছে!
** বন্ধ প্রতিষ্ঠানের ২৪৫ টন বন্ডের কাপড় খালাসের চেষ্টা
** নেত্রকোনা এক্সেসরিজের ৫ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি
** বন্ডের ৪৯২৭ টন কাপড়ের ৩৭৯৭ টন-ই বিক্রি করে দিয়েছে!
** ১৪৫ টন বন্ডের কাপড় গোডাউনে ঢুকেনি, সড়ক থেকে ‘হাওয়া’
** ‘বন্ডের পণ্য বাজারে বিক্রি করলেই লাইসেন্স বাতিল’
** টেরিবাজারে জাহাজ থেকে খালাস হয় বন্ডের কাঁচামাল!
** বন্ড দুর্নীতিতে বছরে ৫শ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি
** তিন গার্মেন্টস মালিকের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ
** নেত্রকোনা এক্সেসরিজের ৫ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি
** রপ্তানি না করেও পাচ্ছে প্রাপ্যতা-ইউপি, বিক্রি করে এলসি
** প্রাপ্যতা জালিয়াতি, এমডি-চেয়ারম্যানের নামে মামলা
** ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে মিলবে বন্ড সুবিধা
** ‘ট্রেজারি বন্ডের ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে’
** বন্ড লাইসেন্স না থাকলেও কাঁচামাল আমদানির সুযোগ
** বন্ড অফিসে বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
** এইচএস কোডের চার ডিজিট মিল থাকলে খালাস করতে হবে
** এইচএস কোড ভিন্ন হলেও পণ্য খালাসে জটিলতা নেই
** এইচএস কোডের ভুলে ৪০০% জরিমানা, ব্যবসায়ীরা হয়রানি হচ্ছেন: ডিসিসিআই
** এইচএস কোড পাল্টে পণ্য খালাস নেয় বার্জার পেইন্টস
** বন্ড ছাড়াই কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেবে এনবিআর
** ১৪৫ টন বন্ডের কাপড় গোডাউনে ঢুকেনি, সড়ক থেকে ‘হাওয়া’
** কাঁচামাল আমদানিতে ছাড় দিতে চায় এনবিআর
** ‘প্রাপ্যতার সুযোগে’ বন্ডের এক্সেসরিজ খোলাবাজারে
** অনলাইনে মিলছে ‘বন্ড লাইসেন্স’
** তুলা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা
** ইপিজেডের বন্ড সুবিধার ১০৭ টন কাপড় চট্টগ্রামে আটক
** আনোয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের বন্ড সুবিধার অপব্যবহার
** ‘বন্ডের পণ্য বাজারে বিক্রি করলেই লাইসেন্স বাতিল’
** ৩০১ টন বন্ডের কাঁচামাল গায়েব করেছে ‘জেএফকে ফ্যাশন’
** অনুমোদন পেলো ‘ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেট’
