বিশ্বব্যাপী হালাল পণ্যের বাজারের আকার এখন ৩ লাখ কোটি ডলারেরও বেশি। অথচ বাংলাদেশ এখনো মাত্র ৮৫ কোটি ডলারের হালাল পণ্য রপ্তানিতে সীমাবদ্ধ। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষিপণ্য ছাড়াও হালাল ফার্মাসিউটিক্যালস, কসমেটিকস ও খাদ্যপণ্যে বাংলাদেশের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ খাতের উন্নয়নে জরুরি ভিত্তিতে একক হালাল সার্টিফিকেশন কর্তৃপক্ষ গঠন এবং মাননিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামো তৈরি প্রয়োজন।
শনিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘হালাল শিল্প খাতের উন্নয়ন: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক ফোকাস গ্রুপ আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।
আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) সহকারী অধ্যাপক মমিনুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) দুটো প্রতিষ্ঠান হালাল পণ্যের সনদ প্রদান করে। এদের মধ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এ পর্যন্ত ২৫৪টি কোম্পানিকে ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ২৩টি কোম্পানিকে হালাল সনদ দিয়েছে। কিন্তু দুটি প্রতিষ্ঠান আলাদাভাবে সনদ দেওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করছে। তিনি আরও জানান, হালাল পণ্যের বাজার ধরার ক্ষেত্রে আরও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে পিছিয়ে থাকা, দেশের ব্র্যান্ডিংয়ে পিছিয়ে থাকা, এসএমইদের অনুপস্থিতি, সমন্বিত নীতিমালা না থাকা, দক্ষ জনবলের অভাব, দুর্বল ট্রেসেবিলিটি ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলার ক্ষেত্রে অসংগতি প্রভৃতি প্রদান চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি সমন্বিত হালাল বোর্ড গঠন প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি রাজীব এইচ চৌধুরী বলেন, বিশ্বব্যাপী হালাল পণ্যের প্রায় ৩ লাখ কোটি ডলারের বাজার রয়েছে। ২০৩৪ সালে এটি প্রায় সাড়ে ৯ লাখ কেটি ডলার ছাড়াতে পারে। অথচ বাংলাদেশ বর্তমানে মাত্র ৮৫ কোটি ডলারের মতো হালাল পণ্য রপ্তানি করে। এটির বেশির ভাগই কৃষিভিত্তিক পণ্য। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিএসটিআই ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন হালাল সনদ দিয়ে থাকে। তাদের মাঝে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটির সদস্যদের নিয়ে দ্রুত একটি স্বীকৃত হালাল সার্টিফিকেশন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
ব্যবসায়ীরা যেসব সমস্যার কথা বললেন
অনুষ্ঠানের নির্ধারিত আলোচনায় প্যারাগন গ্রুপের রপ্তানি বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা হালাল পণ্য রপ্তানি করতে গেলে বিদেশি ক্রেতারা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের হালাল সনদ চায়। এ ক্ষেত্রে আমরা অনেকটা পিছিয়ে আছি।’
বেঙ্গল মিটের রপ্তানি ও সাপ্লাই চেইন বিভাগের প্রধান সায়েদুল হক ভূঁইয়া বলেন, পণ্য প্রস্তুতে হালাল পদ্ধতি মেনে চলার ক্ষেত্রে উন্নতির জায়গা খুব কম। যেমন হালাল মাংস শুধু আর হালাল জবেহ পদ্ধতির বিষয় নয়। গরুটা কোন ফার্মে বড় হয়েছে, কী ভ্যাকসিনেশন হয়েছে, কী খাবার পেয়েছে ইত্যাদি বিষয় দেখা হয়। বরং এখন হালাল পণ্যের মূল্য সংযোজন বাড়ানো যায়। তবে এ ক্ষেত্রে বড় বিনিয়োগ ও সরকারের নীতিসহায়তা প্রয়োজন।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটামরফোসিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদিক এম আলম বলেন, ‘কাঁচামাল থেকে শুরু করে ভোক্তার হাতে তৈরি পণ্য পৌঁছানো পর্যন্ত সব ধাপে হালাল প্রক্রিয়া অনুসরণের নিশ্চয়তা থাকতে হবে। এ জন্য প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। প্রথমেই একটা ন্যাশনাল হালাল রেজিস্ট্রি তৈরি করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে সিঙ্গেল পয়েন্টে আমরা ব্লক চেইনভিত্তিক অনলাইন সার্টিফিকেশন ইস্যু করতে পারব।’
