ফ্ল্যাট দুর্নীতি: টিউলিপের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

অবৈধভাবে একটি ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক–এর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার একটি আদালত। রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। একই মামলায় রাজউক–এর সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

দুদক প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৮ মার্চ দিন রাখা হয়েছে।’ রাজধানীর পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতির আরেক মামলায় ১ ডিসেম্বর টিউলিপকে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।

পূর্বাচলে মা শেখ রেহানাকে ১০ কাঠা প্লট পাইয়ে দিতে খালা শেখ হাসিনার ওপর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ আনা হয় ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক–এর বিরুদ্ধে। রায়ে শেখ রেহানাকে সাত বছর এবং শেখ হাসিনাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য আসামিদেরও পাঁচ বছর করে সাজা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ ওঠার পর টিউলিপ প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তবে লন্ডন ও ঢাকায় প্লট ও ফ্ল্যাট সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ তিনি বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৫ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশন–এর ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

এ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গুলশান ২ নম্বরে ওই প্লট হস্তান্তরে ব্রিটিশ এমপি ‘প্রভাব বিস্তার’ করেন এবং সেখানেই ‘ঘুষ’ হিসেবে একট ফ্ল্যাট নেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ‘অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতার অপব্যবহারের’ মাধ্যমে ইস্টার্ন হাউজিং থেকে ঘুষ হিসেবে গুলশান ২ এর একটি ফ্ল্যাট টিউলিপ সিদ্দিককে দিতে সহায়তা করেন। তিনি (টিউলিপ) কোনো অর্থ পরিশোধ ছাড়াই ফ্ল্যাটটি গ্রহণ করেন এবং পরে সেটির খতিয়ান ও অনুমোদন পেতে ‘প্রভাব’ খাটান।

এ মামলায় রাজউকের দুই সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান ও সরদার মোশারফ হোসেনকেও আসামি করা হয়। তবে গত বছরের জুলাই মাসে শাহ খসরুজ্জামান মামলার তদন্ত স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেন। তার রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট খসরুজ্জামানের তদন্ত তিন মাসের জন্য স্থগিত করে। পরে দুদক চেম্বার আদালতে গেলে ‘নো অর্ডার’ দেয়। ফলে এ আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া যাবে না বলেছে দুদক। এ অবস্থায় তদন্ত শেষে গেল ১১ ডিসেম্বর দণ্ডবিধির ১৬১/১৬৫(ক)/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারায় এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় টিউলিপ ও সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।

** টিউলিপসহ ২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
** হাসিনার ৫, রেহানার ৭ ও টিউলিপের ২ বছরের জেল
** রিটার্ন দিয়েও নাগরিকত্ব অস্বীকার টিউলিপের!
** টিউলিপ: নাগরিকত্ব নেই, আছে ট্যাক্স ফাইল!
** টিউলিপ ছয় বছর ধরে রিটার্ন দেন না
** গুলশানের বিলাসবহুল ভবনই ছিল টিউলিপের স্থায়ী ঠিকানা