সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা গেলে দেশে দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন গবেষকরা। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা র্যাপিডের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিটি সঠিকভাবে পরিচালিত হলে দেশের প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে চরম দারিদ্র্যও প্রায় ৫৬ লাখ কমে যেতে পারে। গত ১০ মার্চ থেকে দেশে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৩৭ হাজার পরিবারকে এই কার্ড প্রদান করেছে সরকার। দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় এটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
র্যাপিডের গবেষণা বলছে, কর্মসূচিটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে দেশের সামগ্রিক দারিদ্র্য ৭ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আর চরম দারিদ্র্য কমে দাঁড়াতে পারে ২ দশমিক ২ শতাংশে। এতে শুধু দারিদ্র্যই কমবে না, প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ মানুষ অর্থনৈতিক দুর্বলতা থেকেও বেরিয়ে আসতে পারবে।র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাক জানান, যদি এই ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যেতে পারে সরকার, তাহলে দারিদ্রের হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ১১ শতাংশের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে।
গবেষকদের মতে, দেশে এখনো প্রায় ৫৪ শতাংশ দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার কোনো ধরনের সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা পাচ্ছে না। অন্যদিকে, বর্তমানে সুবিধাভোগীদের প্রায় ৬০ শতাংশই প্রকৃত দরিদ্র নয়। তাই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে সফল করতে প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলোকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করা এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় সমন্বিত সংস্কার আনা জরুরি বলে মনে করছেন তারা। এ প্রসঙ্গে র্যাপিডের চেয়ারম্যান বলেন, অতীতে দারিদ্র্য কমাতে নির্দিষ্ট কোনো কার্যকর ব্যবস্থা ছিল না। ফলে গত তিন বছরে দেশে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কারণে অনেক মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। তাই এসব মানুষের জন্য বিশেষভাবে লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচির প্রয়োজন ছিল, যা ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, অর্থনীতির সুফলটা বাংলাদেশের প্রত্যেক পরিবারে, প্রত্যেক ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, এটা কি আমরা একদিনে পারব? না, এটা আমরা পাইলটিং স্টেজে (পরীক্ষামূলকভাবে) শুরু করেছি ইনশাআল্লাহ্। আমরা এই পাইলটিং প্রোগ্রামটি সফলভাবে শুরু করেছি, যেটা আপনারা জানেন এবং আগামী ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে, বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে সবগুলো পরিবারকে কভার করবে (এর আওতায় নিয়ে আসবে)। বিশ্লেষকদের মতে, কর-জিডিপি অনুপাত কমতে থাকায় সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়লে অর্থনীতিতে কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারে। তাই সঠিক সমন্বয় নিশ্চিত করাই এখন এই কর্মসূচির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
