আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে বিনিয়োগ সংক্রান্ত ছয়টি সংস্থা একীভূত করা হবে। নতুন সংস্থার পরিচালনা পর্ষদ গঠনের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। সার্বিক পথনকশা প্রস্তুতির জন্য আগামী মাসে একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হবে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই প্রতিষ্ঠান নতুন সংস্থার কাঠামো ও আইনি ভিত্তি তৈরি করবে।
দেশে বর্তমানে বিনিয়োগ–সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে এমন বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষ ছয় প্রতিষ্ঠান হচ্ছে—বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিডা, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।
বিডা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ছয়টি সংস্থাকে একীভূত করে বিনিয়োগ প্রচার ও অনুমোদনের জন্য একটি ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ বা কেন্দ্রীয় কাঠামো গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ বিষয়ে বিডার নির্বাহী সদস্য (ব্যবসা উন্নয়ন) নাহিয়ান রহমান গত রোববার সাংবাদিকদের বলেন, উচ্চপর্যায়ের সরকারি কমিটিতে দুটি কাজ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথমত, গভর্নিং বোর্ডের অধীনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কেন্দ্রীভূত করা। দ্বিতীয়ত, পুরো একীভূতকরণ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্য স্বাধীন আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া।
নাহিয়ান রহমান জানান, গত মাসের ১৫ তারিখে কমিটির বৈঠকে নতুন সংস্থার গভর্নিং বোর্ডের খসড়া ও সংশ্লিষ্ট আইনের প্রস্তাবনা তৈরি হয়েছে। পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলতি মাসের শেষে সম্পন্ন হবে। তারা নভেম্বরের শুরু থেকে কাজ শুরু করবে এবং কাজ শুরুর তিন মাসের মধ্যে পথনকশা দেবে। সব মিলিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে পুরো একীভূতকরণ কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নাহিয়ান রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারীরা বলে আসছিলেন যে বিনিয়োগ সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে একক প্ল্যাটফর্ম থাকা প্রয়োজন। এখন তাঁদের একাধিক সংস্থায় যেতে হয় এবং অনেক সময় হয়রানির শিকার হতে হয়। সে জন্য সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংস্কার কমিশন ও শ্বেতপত্রের সুপারিশও আমলে নেওয়া হয়েছে। নাহিয়ান রহমান আরও বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি আমরা। পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। লক্ষ্য হলো, যেন কোনো বিচ্যুতি না ঘটে।’

