বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সরবরাহকৃত ফার্নেস অয়েলের ভোক্তা পর্যায়ের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করে প্রতি লিটার ৭০ টাকা ১০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আজ রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। আগে এ জ্বালানি তেল প্রতি লিটার ৮৬ টাকায় বিক্রি হতো। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর সচিব মো. নজরুল ইসলাম সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দামের বিষয়টি জানানো হয়।
ফার্নেস অয়েল (এইচএফও)–এর মূল্য পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি কমিশনের কাছে প্রস্তাব জমা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড (এমপিএল) ২৬ মে, স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (এসএওসিএল) ৩ জুন, যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (জেওসিএল) ২৩ জুন এবং পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (পিওসিএল) ২১ জুলাই বিপণন চার্জ ও সমন্বিত পরিবহন চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব দাখিল করে। এসব প্রস্তাবের ওপর চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি কমিশন প্রস্তাবকারী লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট আগ্রহী পক্ষগুলোর অংশগ্রহণে গণশুনানি আয়োজন করে। পরে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গণশুনানির পর লিখিত মতামত জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
বিইআরসি জানায়,বিস্তারিত পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন,২০০৩ এর ধারা ২২(খ) ও ৩৪ এ প্রদত্ত দায়িত্ব ও ক্ষমতাবলে কমিশন কর্তৃক বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এর ফার্নেস অয়েলের ভোক্তা পর্যায়ের মূল্য হার, ফার্নেস অয়েল বিপণনে তেল বিপণন কোম্পানীসমূহের চার্জ এবং সমন্বিত পরিবহন চার্জ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। বিইআরসি আরও জানায়, ফার্নেস অয়েল বিপণনে পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (পিওসিএল), মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড (এমপিএল), যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (জেওসিএল) এবং স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (এসএওসিএল) এর বিপণন চার্জ প্রতি লিটার ০.৭১ টাকা এবং সমন্বিত পরিবহন চার্জ প্রতি লিটার ১.২০ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফার্নেস অয়েল এক ধরনের ভারী জ্বালানি তেল, যা অপরিশোধিত খনিজ তেল শোধনের পর অবশিষ্ট ঘন অংশ থেকে তৈরি করা হয়। এটি গাঢ় কালো ও আঠালো তরল, যা উচ্চ তাপে জ্বালালে বিপুল তাপশক্তি উৎপন্ন করে। মূলত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, ইটভাটা, টেক্সটাইল কারখানাসহ বিভিন্ন ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং বড় বয়লার ও চুল্লিতে এ জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। সহজলভ্যতা ও তুলনামূলক কম খরচের কারণে শিল্পখাতে এর ব্যবহার দীর্ঘদিনের। তবে এতে সালফারের মাত্রা বেশি থাকায় পোড়ানোর সময় ধোঁয়া ও বায়ুদূষণ সৃষ্টি হয়, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বলে বিবেচিত।
