ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থীদের নির্বাচনী হলফনামায় তাদের আয়, সম্পদ ও মামলার তথ্য প্রকাশ হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও শিল্পপতি এসএম ফয়সলের ঘোষিত সম্পদের তুলনায় তার নামে থাকা ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি। অন্যদিকে কয়েকজন প্রার্থীর আয় ও সম্পদের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। হলফনামা অনুযায়ী, এসএম ফয়সল গত বছরে তিনটি খাত থেকে মোট ১ কোটি ৮৯ লাখ ৬৮ হাজার ২৯ টাকা আয় করেছেন।
এসএম ফয়সলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২৮ কোটি ৬০ লাখ ৪২ হাজার ৩১৩ টাকা। তবে চারটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে তার ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৯১৬ কোটি ৮০ লাখ ৯ হাজার ৭৩৭ টাকা, যা ঘোষিত সম্পদের তুলনায় প্রায় ৬৬ গুণ বেশি। হলফনামায় স্ত্রীর বাৎসরিক আয় উল্লেখ না থাকলেও তার নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ দেখানো হয়েছে ৩৩ কোটি ৮৩ লাখ ২২ হাজার ৯৪৭ টাকা, যা স্বামীর ঘোষিত সম্পদের চেয়েও বেশি। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এসএম ফয়সলের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা ছিল; এর মধ্যে একটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বাকি দুটি আদালত থেকে খারিজ হয়েছে।
ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ও ইসলামী বক্তা মো. গিয়াস উদ্দিন (তাহেরী) হলফনামায় তার বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন ৮ লাখ ৪০ হাজার ২৯২ টাকা। এর মধ্যে শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে আয় ২২ হাজার ৮৯২ টাকা। স্ত্রীর নামে কোনো অস্থাবর সম্পদের তথ্য নেই। তবে নিজের নামে তিনি ৩১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং ১৩ লাখ ৪ হাজার ৮৯২ টাকার অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন। স্থাবর সম্পদ হিসেবে তার নামে এলাকায় ২৩৯ শতক জমি রয়েছে।
খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমেদ আব্দুল কাদেরের আয়ের একমাত্র উৎস ভবন ভাড়া। এ খাত থেকে তার বাৎসরিক আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। নিজের ও স্ত্রীর নামে তিনি মোট ৭ লাখ ৮৭ হাজার ১৮২ টাকার অস্থাবর সম্পদ এবং ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার দেখিয়েছেন। স্থাবর সম্পদ হিসেবে রাজধানীতে তার ও স্ত্রীর নামে দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত একটি আধাপাকা বাড়ি ও ক্রয়কৃত ১২ লাখ টাকা মূল্যের অকৃষি জমির কথাও হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

