প্রাণ আরএফএল’র প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট ফাঁকি ৪০ কোটি টাকা

প্রাণ আরএফএল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (আরএমআইএল) ইউনিট-২ ও ইউনিট-৩ এর বিরুদ্ধে ৩৯ কোটি ৮৭ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৩ টাকার মূসক ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ইউনিট-৩ এর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ৪ কোটি ৪০ লাখ ৯২ হাজার ২৫৩ টাকার রেয়াত গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ শাহজীবাজার অলিপুরে অবস্থিত দুই প্রতিষ্ঠান ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত এ ৫ বছরে বিপুল পরিমাণ এ ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

চলতি মাসের ৫ জুলাই সিলেট কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উঠে এসেছে। যার কপি হাতে রয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) সিলেট কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। ফাঁকিকৃত ভ্যাট পরিশোধে ১১ জুলাই রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ইউনিট-২ ও ৩ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে।এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২৭ মার্চ থেকে প্রতিষ্ঠানটির ২০১২-১৩ থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত ৫ বছরের মূসক সংক্রান্ত নিরীক্ষা তদন্ত করা হয়। নিরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির দাখিলপত্র (মূসক-১৯), চলতি হিসাব পুস্তক (মূসক-১৮), ক্রয় হিসাব পুস্তক (মূসক-১৬), বিক্রয় হিসাব পুস্তক (মূসক-১৭), কর চালান (মূসক-১৯) এবং পরিদর্শনে প্রাপ্ত তথ্যাদি পর্যালোচনা করা হয়। মেসার্স রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ইউনিট-৩ নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি ব্র্যাক ব্যাংক গুলশান লিংক রোড শাখা, যমুনা ব্যাংক দিলকুশা শাখা ও এইচএসবিসি তেজগাঁও শাখায় লেনদেন করে।

প্রতিষ্ঠানটির মূসক নিবন্ধন নম্বর-২২১২১০২৯৯৮২ এবং সিলেট কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের হবিগঞ্জ আবগারী ও ভ্যাট সার্কেল-২ এ ভ্যাট প্রদান করে থাকে। প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকৃত মূলধন ৬৯৩.৩৭ মিলিয়ন টাকা ও ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ৪৮৫.৩৫৯ মিলিয়ন টাকা। টিআইএন নম্বর ৫৩৬৩৩২৮৯৪৫৩৩। ইউনিট-৩ প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিক্রয় করে ১২ কোটি ৯৯ লাখ ৫ হাজার ৮২ টাকা ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিক্রয় করে ২২৯ কোটি ২ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫৯ টাকার পণ্য। দুই অর্থবছরে ইউনিট-৩ সর্বমোট ২৪২ কোটি ২ লাখ ৪ হাজার ৫৪১ টাকার পণ্য বিক্রয় ও এ পর্যন্ত ১৯টি দাখিলপত্রের মাধ্যমে ৩৬ কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার ৬৮১ টাকার মূসক প্রদান করেছে।

মেসার্স রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড ইউনিট-৩ প্রতিষ্ঠানটি বাইসাইকেল, টায়ার, রীম, স্পোক, ক্যাবলওয়্যার, এমএস পাইপ, জিআই পাইপ ও টিউব তৈরি করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি এসব পণ্য হবিগঞ্জ থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে। প্রতিষ্ঠানটির ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরের দাখিলকৃত কর চালান, ক্রয় হিসাব পুস্তক, বিক্রয় হিসাব পুস্তক, চলতি হিসাব পুস্তক ও মাসিক রিটার্ন বা দাখিলপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে।

ইউনিট-৩ এর নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চলতি হিসাবে প্রদর্শিত আমদানিকৃত পণ্যমূল্য ১৫ কোটি ৭৭ লাখ ২০ হাজার ৩৫৮ টাকা। অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড হতে প্রাপ্ত আমদানিকৃত পণ্যমূল্য ৩৭ কোটি ৪০ লাখ ৬৯ হাজার ২২১ টাকা। এসময় মূসক পরিশোধ করেছে ৫ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার ৩৮৩ টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চলতি হিসাবে (মূসক-১৯) প্রদর্শিত আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য অপেক্ষা অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড হতে প্রাপ্ত আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যের পার্থক্য ২১ কোটি ৬৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮৬৩ টাকা। এসব আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যের পার্থক্যের ওপর উৎপাদন পর্যায়ে ২৫% সংযোজন করে উৎপাদিত পণ্যের মূল্য ২৭ কোটি ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯ টাকা। এর ওপর ১৫% হারে মূসক ফাঁকি দিয়েছে ৪ কোটি ৫ লাখ ৬৫ হাজার ৪১২ টাকা। ইউনিট-৩ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চলতি হিসাবে প্রদর্শিত আমদানিকৃত পণ্যমূল্য ১৮০ কোটি ৫১ লাখ ৯ হাজার ৪৪৪ টাকা। অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড হতে প্রাপ্ত আমদানিকৃত পণ্যমূল্য ১৫৫ কোটি ৬৮ লাখ ৩১ হাজার ৮০৭ টাকা। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৫-১৬ অর্থবছর ২৩ কোটি ৩৫ লাখ ২৪ হাজার ৭৭১ টাকা মূসক পরিশোধ করেছে। তবে অবৈধভাবে ৪ কোটি ৪০ লাখ ৯২ হাজার ২৫৩ টাকার রেয়াত গ্রহণ করেছে।

সূত্র জানায়, ইউনিট-৩ বন্ড লাইন্সেসধারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত পণ্যের বিপরীতে মূল্যভিত্তি ঘোষণাপত্র অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের ওপর কোন মূসক প্রদান করেনি। এক্ষেত্রে ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে অনুমোদিত মূল্যভিত্তি ঘোষণা অনুযায়ী অপচয়ের মোট মূল্য ৮২ লাখ ৯১ হাজার ৪১৩ টাকা। এর ওপর ১৫% হারে মূসক ১২ লাখ ৪৩ হাজার ৭১২ টাকা যা প্রতিষ্ঠানটি পরিশোধ না করে ফাঁকি দিয়েছে। তবে নিরীক্ষা কার্যক্রমের সময় এর স্বপক্ষে কোন দলিলাদি দাখিল করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। ইউনিট-৩ এর বিক্রয় চালান (মূসক-১১) পর্যালোচনায় দেখা যায়, নিরীক্ষাকালীন সময়ে মেসার্স রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ইউনিট-২ এর নিকট থেকে চালানপত্র এর মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য বিক্রয় করে। যদিও ইউনিট-৩ সাপ্লাইয়ার (ট্রেড), সাপ্লাইয়ার (ম্যানুফ্যাচারার্স) ও ইম্পোটার হিসেবে নিবন্ধিত। ইউনিট-৩ রপ্তানি অনুমোদন ব্যতীত বন্ডেড প্রতিষ্ঠান ইউনিট-২ এর নিকট শূণ্য হারে পণ্য সরবরাহ করে ৪ কোটি ২১ লাখ ৩২৬ টাকা ৭৫ পয়সার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, নিরীক্ষা কার্যক্রমে তথ্য প্রদান ও সহযোগিতার জন্য ৯ বার চিঠি দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি তদন্ত দলকে অসহযোগিতা করে। পরে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড হতে আমদানি তথ্য, কর অঞ্চল-৬ চিঠির মাধ্যমে বার্ষিক অডিট রিপোর্ট ও আয়কর রিটার্ন হতে তথ্যের মাধ্যমে নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। ইউনিট-৩ প্রতিষ্ঠানটি মোট ৮ কোটি ৬৩ লাখ ২২ হাজার ৭০৩ টাকার মূসক ফাঁকি দিয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে রেয়াত গ্রহণ করেছে ৪ কোটি ৪০ লাখ ৯২ হাজার ২৫৩ টাকা। এছাড়া অডিট দল ভবিষ্যতে মূসক ফাঁকি রোধ কয়েকটি সুপারিশ করেছে।

মেসার্স রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড ইউনিট-২ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ইউনিট-২ এর মূসক নিবন্ধন নম্বর-২২১২১০২৯৭৮৪। প্রতিষ্ঠানটি সাপ্লাইয়ার (ম্যানুফাচারার্স), সাপ্লাইয়ার (ট্রেড), ইম্পোর্ট ও এক্সপোর্টার হিসেবে নিবন্ধিত। প্রতিষ্ঠানটির ২০১২-১৩ থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের নিরীক্ষা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ মূলধন ২৪৭৯.৬৪ মিলিয়ন টাকা ও ব্যাংক ঋণ ১৪৯৯.৪৪ মিলিয়ন টাকা। টিআইএন নম্বর-৫৩৬৩৩২৮৯৪৫৩৩। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মোট ১৯ কোটি ৬৫ লাখ ৬৬ হাজার ৯৮১ টাকার পণ্য বিক্রয় করেছে। ২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর থেকে প্রতিষ্ঠানটি বন্ডের কার্যক্রম শুরু করে। ইউনিট-২ প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত ২৪টি দাখিলপত্রে (মূসক-১৯) ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮৫ হাজার ৪৭ টাকার মূসক পরিশোধ করেছে।

মেসার্স রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড ইউনিট-২ প্রতিষ্ঠানটি বাইসাইকেল, টায়ার, রীম, স্পোক, ক্যাবলওয়্যার, এমএস পাইপ, জিআই পাইপ ও টিউব তৈরি করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি এসব পণ্য হবিগঞ্জ থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির বন্ডের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয় যা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের দাখিলকৃত কর চালান, ক্রয় হিসাব পুস্তক, বিক্রয় হিসাব পুস্তক, চলতি হিসাব পুস্তক ও মাসিক রিটার্ন বা দাখিলপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির চলতি হিসাবে প্রদর্শিত আমদানিকৃত পণ্যমূল্য ৪ কোটি ১৯ লাখ ১১ হাজার ১৭১ টাকা। অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড হতে প্রাপ্ত আমদানিকৃত পণ্যমূল্য ৫ কোটি ৮৯ লাখ ৯ হাজার ৪৮৬ টাকা। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে চলতি হিসাবে (মূসক-১৯) প্রদর্শিত আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য অপেক্ষা অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড হতে প্রাপ্ত আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যের পার্থক্য ১ কোটি ৬৯ লাখ ৯৮ হাজার ৩১৫ টাকা। এসব আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যের পার্থক্যের ওপর উৎপাদন পর্যায়ে ২৫% সংযোজন করে উৎপাদিত পণ্যের মূল্য ২ কোটি ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৪ টাকা। এর ওপর ১৫% হারে মূসক ফাঁকি দিয়েছে ৩১ লাখ ৮৭ হাজার ১৮৪ টাকা।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে চলতি হিসাবে প্রদর্শিত আমদানিকৃত পণ্যমূল্য ১২ কোটি ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৭৭৬ টাকা। অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড হতে প্রাপ্ত আমদানিকৃত পণ্যমূল্য ৪০ কোটি ৪২ লাখ ৫৯ হাজার ৩৬৪ টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চলতি হিসাবে (মূসক-১৯) প্রদর্শিত আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য অপেক্ষা অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড হতে প্রাপ্ত আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যের পার্থক্য ২৮ কোটি ২৮ লাখ ২৭ হাজার ৫৮৯ টাকা। এসব আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যের পার্থক্যের ওপর উৎপাদন পর্যায়ে ২৫% সংযোজন করে উৎপাদিত পণ্যের মূল্য ৩৫ কোটি ৩৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮৬ টাকা। এর ওপর ১৫% হারে মূসক ফাঁকি দিয়েছে ৫ কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার ১৭৩ টাকা।

সূত্র আরো জানায়, ইউনিট-২ প্রতিষ্ঠানটি আমদানি পর্যায়ে মূসক-৭ ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনকারী হিসেবে এটিভি (অ্যাডভান্স ট্রেড ভ্যাট) সুবিধা গ্রহণ করেছে। কিন্তু আমদানিকৃত পণ্যের কোন রূপ পরিবর্তন ছাড়াই স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহ করে। পণ্য আমদানি মূল্যভিত্তিক ঘোষণাপত্র এর মাধ্যমে ২৬টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে আমদানিকৃত পণ্য বিক্রয় করায় প্রকৃত রাজস্ব পরিশোধের চেয়ে কম রাজস্ব পরিশোধ করায় রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে ২১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫৯ টাকা। প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দাখিলকৃত বন্ডের আওতায় উৎপাদিত পণ্যের বিপরীতে আমদানি-রপ্তানি এবং অপচয় দলিলাদি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ডেডো (শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যপর্ণ পরিদপ্তর) কর্তৃক অনুমোদিত অপচয়ের হারের মোট মূল্য ১ কোটি ৪৯ লাখ ৬৯ হাজার ২৩৬ টাকা। এর ওপর ১৫% হারে মূসকের পরিমাণ ২২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮৫ টাকা যা প্রতিষ্ঠানটি ফাঁকি দিয়েছে। তবে নিরীক্ষা কার্যক্রমের সময় প্রতিষ্ঠানটি এর স্বপক্ষে কোন দলিলাদি দাখিল করতে পারেনি।

সূত্র আরো জানায়, ইউনিট-২ এর দাখিলকৃত ক্রয় চালান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ইউনিট-২ ইউনিট-৩ এর নিকট থেকে চালানপত্র (মূসক-১১) এর মাধ্যমে কাঁচামাল ক্রয় করে। কিন্তু ইউনিট-৩ এর কোন প্রকার রপ্তানি অনুমোদন নেই। রপ্তানি অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান হতে ইউনিট-২ কাঁচামাল ক্রয় করে ৪ লাখ ২১ হাজার ৩২৬ টাকা ৭৫ পয়সা মূসক ফাঁকি দিয়েছে।

সূত্র জানায়, ইউনিট-২ ও ৩ প্রতিষ্ঠানকে নিরীক্ষা কার্যক্রমে তথ্য ও সহায়তা প্রদানে চিঠি দেওয়া হলেও কোন প্রকার সহযোগিতা করেনি। পরে কর অঞ্চল-৬ ঢাকায় জমা দেওয়া প্রতিষ্ঠানের আয়কর বিবরণী হতে তথ্য নিয়ে নিরীক্ষা কার্যক্রম শেষ করা হয়। আয়কর বিবরণী ও সিএ রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ইউনিট-২ ও ৩ একই ই-টিআইএনধারী (কর অঞ্চল-৬, সার্কেল-১১)। লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে ক্রয়কৃত পণ্য বা সেবা গ্রহণের বিপরীতে মূল্যের ওপর উৎসে মূসক কর্তেনের বিধান রয়েছে। কিন্তু নিরীক্ষিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তা যথাযথ পরিপালন করা হয়নি।

নিরীক্ষাকালীন সময়ে ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিভিন্ন পণ্য বা সেবা ক্রয়ের বিপরীতে মূল্যের ওপর প্রযোজ্য উৎসে মূসক (১,৩৫,০৮,৯৬৪+২,৫৭,৪০,৮১৬+৩,৬০,৬০,৪৬২+৫,১৩,৯৬,৭৩৫+৯৪,৬২,৬৯৩) ১৩ কোটি ৬১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৬৯ টাকা। এর ওপর মাসিক ২% হারে সুদে মোট সুদ (২,৭৪,০৮,৩৩৮+২,৮৮,৮৮,৮৮৬+২,৬০,৪০,৩১৭+১,৬৫,৮৫,৮২৩+২৬,৭৩,৮৫১) ১০ কোটি ১৫ লাখ ৯৭ হাজার ২১৫ টাকা। সুদসহ মোট মূসক ফাঁকি (১৩,৬১,৬৯,৬৬৯+১০,১৫,৯৭,২১৫) ২৩ কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮৪ টাকা। ইউনিট-২ এ বিভিন্ন খাত অপরিশোধিত সুদসহ মূসক (৫,৬২,১৭,৩৫৭+২১,৮৭,৮৫৯+২২,৪৫,৩৮৫+৪,২১,৩২৬+২৩,৭৭,৬৬,৮৮৪+১,৩৫,৭৭,৩৫৯) ৩১ কোটি ২৪ লাখ ১৬ হাজার ১৭০ টাকা। মেসার্স রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড ইউনিট-৩ ৮ কোটি ৬৩ লাখ ২২ হাজার ৭০৩ টাকা ও মেসার্স রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড ইউনিট-২ ৩১ কোটি ২৪ লাখ ১৬ হাজার ১৭০ টাকাসহ দুইটি প্রতিষ্ঠান মোট (৮,৬৩,২২,৭০৩+৩১,২৪,১৬,১৭০) ৩৯ কোটি ৮৭ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৩ টাকার মূসক ফাঁকি দিয়েছে। এছাড়া ইউনিট-৩ অবৈধভাবে রেয়াত গ্রহণ করেছে ৪ কোটি ৪০ লাখ ৯২ হাজার ২৫৩ টাকা যা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ফাঁকিকৃত মূসক পরিশোধে ১১ জুলাই দুইটি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ফাঁকিকৃত মূসক পরিশোধে তাগাদা দেওয়া হয়। একই সাথে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রাপ্ত মূসক ফাঁকি বিষয়ে কোন আপত্তি থাকলে ৭ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর অনুরোধ করা হয়।

এ বিষয়ে প্রাণ আরএফএল গ্রুপের হেড অব পিআর সুজন মাহমুদ ও ম্যানেজার (পিআর) জিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রির ভ্যাট ফাঁকির বিষয়ে বক্তব্য নিতে যোগাযোগ করা হলেও তারা সংশ্লিষ্ট কারো নম্বর দেয়নি।

This will close in 5 seconds