নতুন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন—এ নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ বলেছেন, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে প্রধান বিচারপতি কিংবা প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে পারবেন। মন্ত্রিসভার সদস্যদের ক্ষেত্রে তিনি জানান, তাদের শপথ গ্রহণ করাবেন রাষ্ট্রপতি। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এসব কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের ২৯৭টি আসনের ফলাফলে বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে, তাদের প্রাক্তন মিত্র জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পেয়ে বিরোধী দলের আসনে বসবে। নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ শুক্রবার রাতে নির্বাচিত ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ করেছেন। এর আগে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। বর্তমানে তিনি মামলার আসামি হয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্বে ছিলেন শামসুল হক টুকু, যিনি বর্তমানে মামলার কারণে কারাগারে রয়েছেন। ফলে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ করাবেন কে—এ নিয়ে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, গেজেট নোটিফিকেশন হয়ে গেছে। আইন অনুযায়ী তিন দিন সময়ের মধ্যে তাদের শপথ গ্রহণ হয়। সংসদ সদস্য হিসেবে, সেটি এই তিন দিন সময় আগামীকাল থেকে শুরু করে ১৭ তারিখের মধ্যে শপথ গ্রহণ হবে। শপথের পরের প্রক্রিয়া তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল তাদের নিজস্ব সংসদ সদস্যদের নেতা নির্বাচন করবেন। যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের নেতা নির্বাচিত হবেন, তিনি রাষ্ট্রপতিকে জানাবেন যে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের নেতা।
মহামান্য রাষ্ট্রপতি তখন নিয়ম অনুযায়ী তাকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের প্রস্তাব বা নিয়োগ দেবেন। এর পর একটি সুবিধাজনক সময় নির্ধারণ করে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আমরা আশা করছি, শপথ তিন দিন বা সর্বোচ্চ চার দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। শপথের জন্য প্রস্তুতি আছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ বলেন, আগামীকাল বা পরশু শপথ অনুষ্ঠানের জন্য আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে যদি বলা হয়, তিন দিনের পরে অনুষ্ঠান হবে, তাতেও আমাদের প্রস্তুতি আছে। সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন তা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, এটি দেখবে সংসদ সচিবালয়।
নতুন সংসদ সদস্যদের শপথের বিষয়ে এর আগে নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ বলেছিলেন, ১৪৮ এর ৩ ধারায় বলা হয়েছে, স্পিকার অথবা ডেপুটি স্পিকার যদি না পড়ান, বা তারা পড়াতে অসমর্থ হন বা না থাকেন, তাহলে তিন দিন পরেও চতুর্থ দিন থেকে পরবর্তী দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারই শপথ পাঠ করাবেন। তার আগে ৫ ফেব্রুয়ারি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে নতুন সংসদ সদস্যদের ‘রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি’ দ্বারা শপথ পড়ানোর কথা বলেছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, নির্বাচিত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে কেউ শপথ না পড়ালে সেক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারবেন।
