প্রকৌশল পণ্য রপ্তানিতে সম্ভাবনা ১২০০ কোটি ডলার

আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরে ১২০০ কোটি ডলারের হালকা প্রকৌশল যন্ত্রপাতি রপ্তানির সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় এডিসন প্রাইম ভবনে ‘রোড টু মেড ইন বাংলাদেশ অ্যান্ড এগ্রো মেশিনারি ফেয়ার’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে তিনি এ কথা জানান।

একই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান বলেন, জাতীয় শিল্পনীতিতে অটোমোবাইল, কৃষি যন্ত্রাংশ ও হালকা প্রকৌশল—এই তিনটি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এসব খাত উৎপাদনশীল শিল্পের বিকাশ, রপ্তানির বহুমুখীকরণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও বলেন, কৃষি ও অটোমোবাইল খাত নিয়ে এ ধরনের মেলা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করবে।

দুই দিনব্যাপী এই মেলায় অটোমোবাইল, কৃষি যন্ত্রপাতি এবং হালকা প্রকৌশল খাতের ২৬টি স্টল রয়েছে। এছাড়া শিল্পসহায়ক প্রতিষ্ঠানের ১২টি স্টলও মেলায় রয়েছে। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) বাংলাদেশ অটোমোবাইলস অ্যাসেম্বলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন ও এগ্রিকালচার মেশিনারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। মেলা আজ রোববার সমাপ্ত হবে।

এম মাশরুর রিয়াজ বলেন, যান্ত্রিকীকরণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কৃষিযন্ত্র আমদানি, খুচরা যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণসহ পূর্ণাঙ্গ সরবরাহ ব্যবস্থার চাহিদা তৈরি হবে। বর্তমানে দেশের কৃষিযন্ত্রের মাত্র ২০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে তৈরি হয়, বাকি ৮০ শতাংশ আমদানিনির্ভর। সঠিক নীতি, অর্থায়ন, দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা গেলে এই ২০ শতাংশ অচিরেই ৪০ থেকে ৬০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৮০ হাজার মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিট আছে। স্থানীয় বাজারের আকার ৮০০ কোটি ডলার এবং খাতটির বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৮ শতাংশ। বর্তমানে এ খাতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কোটি ডলারের রপ্তানি হয়। আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে তা এক হাজার ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার সম্ভাবনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, র‌্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক এম আবু ইউসুফ, এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।