জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি পুলিশের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে। তদন্তে জড়িত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর কাছে জমা দিয়েছে।
সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী জানান, তদন্তে ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে শুরুতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তাদের বাইরেও কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে বেশ কিছু সুপারিশও করেছে তদন্ত কমিটি।
গত ১২ জুন রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার মোড় থেকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে আটক করে খুলশী থানায় নিয়ে যায় পুলিশ, যেখানে তাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। ওই দিন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের ম্যাচ শেষে বিমানযোগে চট্টগ্রামে এসে বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশায় করে চান্দগাঁওয়ের বাসায় ফিরছিলেন তিনি। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের ফোন, পরিবারের সদস্যদের তৎপরতা এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পরদিন নাঈমের বহদ্দারহাটের ফরিদার পাড়ার বাসায় গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন সিএমপি কমিশনার। একই ঘটনায় অভিযানে অংশ নেওয়া খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং থানার ওসি আরিফ হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) আলমগীর হোসেনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ১৮ জুন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও কমিশনার অতিরিক্ত চার কার্যদিবস সময় বাড়ান। নির্ধারিত সময় শেষে রোববার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নাঈম হাসানের ভাই কামরুল আলম দুই পুলিশ সদস্য ও পুলিশের সোর্স সোহেলকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
