পণ্য খালাসে বিলম্ব, ১৩ জাহাজকে জরিমানা

খাদ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পণ্য দ্রুত খালাস না করে আটকে রাখার অভিযোগে ১৩টি জাহাজের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর। এ ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় এবং দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করার উদ্যোগ। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে এবং যেসব স্থানে পণ্য গুদামজাত করা হয়েছে, সেখানে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আসন্ন পবিত্র রমজান সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বাড়ায় জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যবাহী মাদার ভেসেলের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে বন্দরের বহির্নোঙরে ১১০টি জাহাজ অবস্থান করছে। গত রমজানে খাদ্যপণ্যবাহী জাহাজের সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিল ৪৩। তবে এ বছরের জানুয়ারির প্রথমার্ধেই এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬১।

হঠাৎ জাহাজের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় লাইটার ভেসেলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে সাময়িক সংকট তৈরি হলেও বর্তমানে সেই সংকট নেই বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। তিনি জানান, বর্তমানে দেশে অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্য পরিবহনে ২ হাজার ২৫৮টি লাইটার ভেসেল নিয়োজিত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে তিনটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এ কার্যক্রমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সহায়তা করছে। গত ১৫ জানুয়ারি থেকে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী, ঢাকার বুড়িগঙ্গা, মুন্সিগঞ্জের মেঘনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এবং যশোরের নোয়াপাড়ার ভৈরব নদীতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৭ দিনে ৪০৯টি লাইটার জাহাজ পরিদর্শন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৯২টি জাহাজ ১০ দিনের কম, ৮৭টি ১০ দিনের বেশি এবং ৩০টি ২০ দিনের বেশি সময় ধরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় ছিল। আজ বিভিন্ন নদীবন্দর পরিদর্শনে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ থেকে যশোরের নোয়াপাড়া পর্যন্ত সব ঘাটে বর্তমানে দ্রুতগতিতে পণ্য খালাস চলছে।

গত ১৫ দিনে ৭৩৫টি লাইটার জাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গত ৩০ জানুয়ারি থেকে লাইটার ভেসেল ব্যবস্থাপনায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর একটি সফটওয়্যার চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস এবং লাইটার জাহাজ বরাদ্দের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। তবে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, অনেক ঘাটে এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পণ্য খালাস হওয়ায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এ সমস্যা নিরসনে স্বয়ংক্রিয় ক্রেন ব্যবহার করে পণ্য খালাসের ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

This will close in 5 seconds