পণ্যের রাসায়নিক পরীক্ষা বেসরকারি ল্যাবে করা যাবে

জননিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনায় আমদানি পণ্যের রাসায়নিক পরীক্ষা এখন থেকে বেসরকারি ল্যাবরেটরিতেও করা যাবে। তবে এ জন্য সংশ্লিষ্ট ল্যাবকে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড এবং আন্তর্জাতিক মান সংস্থা (আইএসও) থেকে স্বীকৃতি নিতে হবে। পাশাপাশি, পরীক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ বাধ্যতামূলক থাকবে। এর আগে আমদানি পণ্যের রাসায়নিক পরীক্ষা কেবল কাস্টমস বা সরকারি ল্যাবরেটরিতেই সম্পন্ন হতো।

ব্যবসা-বাণিজ্য সহজের লক্ষ্যে এবং আমদানি পণ্যের নমুনা পরীক্ষার সময় বাঁচাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর এ আদেশ জারি করেছে। বৃহস্পতিবার বাজেট ঘোষণার দিন এনবিআর এ আদেশ জারি করে। সে দিন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন।

জননিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে ক্ষতিকর পণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণ, মেধাস্বত্ব রক্ষা, আমদানি নীতি আদেশের শর্ত প্রতিপালন এবং আমদানিকারকের ঘোষণার যথার্থতা যাচাই করতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পণ্যের রাসায়নিক পরীক্ষা করে থাকে। বর্তমানে এসব পরীক্ষা কেবল কাস্টমস ল্যাবরেটরি অথবা নির্দিষ্ট কিছু সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ল্যাবেই সীমাবদ্ধ রয়েছে, যার বেশিরভাগই রাজধানী ঢাকায় সম্পন্ন হয়।

দেশের সবচেয়ে বেশি পণ্য আসা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নমুনা এনে ঢাকায় ল্যাবে পরীক্ষার পর এর প্রতিবেদন পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায় এবং এরজন্য বন্দরের মাশুলসহ নানান খরচের মুখোমুখি হতে হয় ব্যবসায়ীদের। এনবিআর তাদের নতুন আদেশে বলেছে, ল্যাবরেটরিসমূহের ‘নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কারণে’ রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল পেতে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব হয়’ এবং সে কারণে কিছু ক্ষেত্রে ‘পণ্য খালাসে বিলম্ব’ হয়ে থাকে।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ব্যবসায়ীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বেসরকারি উদ্যোগে চট্টগ্রামে ল্যাব স্থাপন এবং আমদানিকারকদের নিজস্বভাবে পণ্যের পরীক্ষা করার সুযোগ তৈরির জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন। এর ধারাবাহিকতায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বেসরকারি ল্যাবরেটরির মাধ্যমে আমদানি পণ্যের রাসায়নিক পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে। তবে যেসব পণ্যের ক্ষেত্রে আমদানি নীতি আদেশে নির্দিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ বা ল্যাবরেটরির মাধ্যমে পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা আছে, সেসব ক্ষেত্রে এই নতুন সুযোগ প্রযোজ্য হবে না। সেসব পণ্যের পরীক্ষা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ বা ল্যাবেই করতে হবে।