পণ্যপাচারে ট্রাকচালকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বেনাপোল স্থলবন্দর

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে কাগজপত্রবিহীন একটি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট একটি বাংলাদেশি ট্রাক ও তার চালককে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্দরের আনসার সদস্য ও বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) সকালে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় এ মামলা করে। বন্দর ও কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ঝিকরগাছার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজের নামে সরিষার খৈলবোঝাই একটি ভারতীয় ট্রাক গত ২৩ জুন রাত ৯টার দিকে বন্দরে প্রবেশ করে এবং ২৫ জুন ৩৫ নম্বর শেডে খালাসের জন্য যাওয়ার তথ্য দেখিয়ে বন্দর এলাকা ত্যাগ করে।

অভিযোগ রয়েছে, ট্রাকটিতে থাকা অবৈধ ৫০ বস্তা পণ্য ৩২ নম্বর ইয়ার্ডে একটি বাংলাদেশি ট্রাকে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ভারতীয় ট্রাকটি বিকেল ৫টার দিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ৩১ নম্বর ইয়ার্ডে প্রবেশ করলে সেটি আটক করা হয়। খবর পেয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামীর উপস্থিতিতে ট্রাকটি তল্লাশি করা হয়। এ সময় ট্রাক থেকে ১৪০ বস্তা সরিষার খৈল ও ৫০টি খালি বস্তা জব্দ করা হয়। ঘটনার পর ভারতীয় ট্রাকচালক পালিয়ে গেলেও বাংলাদেশি ট্রাক ও এর চালককে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে, পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রটি কৌশলে মেসার্স প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল-এর নাম ব্যবহার করেছে বলে জানা গেলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অভিযোগটি অস্বীকার করা হয়েছে। ঘটনার পর কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে। বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক কাজী রতন জানান, অপরাধ দমনে বন্দর কর্তৃপক্ষ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে এবং কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে নিরাপত্তাকর্মী ও ট্রাকচালকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, পরবর্তীতে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদেরও মামলায় যুক্ত করা হবে। এদিকে বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে; তবে তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানান, বন্দরে প্রবেশ করা প্রতিটি আমদানিকৃত ট্রাক প্রথমে বিজিবির তল্লাশি, এরপর কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের যৌথ ওজন পরীক্ষা এবং সর্বশেষ উন্নতমানের স্ক্যানিং মেশিনে পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া বন্দরের প্রায় ৩৭৫টি সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি রয়েছে। এত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও অসাধু চক্রের একটি অংশ যোগসাজশ কিংবা নজরদারির ফাঁকে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য প্রবেশ করাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি বন্দরের বাণিজ্যিক নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে চলতি মাসে কাস্টমসের দায়ের করা পণ্য পাচারের আগের তিনটি মামলায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে বৈধ পথে আমদানিকৃত পণ্য পাচার ও অনিয়ম রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।