পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবদারু তলার মৌসুমি ফলের বাজারটি এখন পরিচিত জলপাই হাটের জন্য। মৌসুমজুড়ে জমজমাট বাজারটিতে প্রতিদিন জলপাই বিক্রি করতে আসেন হাজারও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। দেশের সর্ববৃহৎ এই জলপাই হাট থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে জলপাই পাঠানো হয়। মান ও গুণের কারণে চাহিদা বেশি থাকায় ভালো দামও পাচ্ছেন স্থানীয় চাষিরা। এতে প্রতি বছর জলপাই বাগান বাড়ছে দেবীগঞ্জে। এই হাটে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১০০ টন জলপাই বিক্রি হচ্ছে। যার বাজার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা।
ভোরের আলো ফুটতেই দেবীগঞ্জের দেবদারু তলায় জমে ওঠে জলপাইয়ের হাট। ভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেল ও পিকআপভর্তি বস্তাবোঝাই জলপাই এসে ভিড় করে বাজারে। রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুরসহ নানা জেলা থেকে পাইকাররা এসে এসব জলপাই কিনে নিয়ে যান। মানভেদে প্রতি কেজি জলপাই বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। প্রতি বছর অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া জলপাই আহরণ মৌসুম চলে তিন মাস ধরে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈম মোর্শেদ জানান, জলপাইয়ের এই হাটটি প্রতিদিনই সম্প্রসারিত হচ্ছে। একই সঙ্গে পঞ্চগড়ে জলপাইয়ের আবাদও বাড়ছে। আমরা চাষিদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছি। জলপাই চাষ করে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। পঞ্চগড়ে উৎপাদিত জলাপাই শুধু দেশের বাজারেই নয়। রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও। অনলাইনের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় জলপাই পাঠাচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ফলে জেলার অর্থনীতিতে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। জলপাই ব্যবসাকে ঘিরে পঞ্চগড় জেলার কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক ধারায় নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, পঞ্চগড়ে বড় পরিসরে বাগান না থাকলেও জেলায় ছোট ছোট খামার, বাড়ির উঠান, রাস্তার ধার ও জমির আইলে সব মিলিয়ে জলপাই চাষ হচ্ছে ১৩ দশমিক ৮ হেক্টর জমিতে। গত মৌসুমে পঞ্চগড়ে জলপাই উৎপাদন হয়েছে ৩ হাজার টন। এবার তা আরও বাড়বে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
