নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত দেশে প্রথম মৃত্যু

নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নওগাঁয় এক নারীর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি বলেছে, চলতি বছরে দেশে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এটিই প্রথম মৃত্যু।

আইইডিসিআরের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা শনিবার বিকালে বলেন, ওই নারী নিপা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। বিষয়টি জানার পর আমরা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছি, তিনি নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। নিপা ভাইরাসে চলতি বছর এটাই প্রথম মৃত্যু। গত ২৮ জানুয়ারি ওই নারীর মৃত্যু হয় বলে জানান শারমিন সুলতানা।

দেশে নিপা ভাইরাসে সর্বশেষ মৃত্যু হয়েছিল গত বছরের আগস্টে। সে বছর ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়। নিপা ভাইরাস সাধারণত শূকর ও ফলখেকো বাদুড়ের মতো প্রাণী থেকে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়। এসব প্রাণীর সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শে এলে কিংবা তাদের লালা ও মলমূত্রের মাধ্যমে মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন। মানবদেহে প্রবেশের পর এ ভাইরাস সাধারণত চার থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত সুপ্ত থাকতে পারে। সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে তীব্র জ্বর, বমি বমি ভাব, বমি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, যা পরবর্তী সময়ে নিউমোনিয়ায় রূপ নিতে পারে।

গুরুতর ক্ষেত্রে নিপা ভাইরাসে মস্তিষ্কে মারাত্মক প্রদাহ বা ফোলা সৃষ্টি হতে পারে, যার ফলে তন্দ্রাচ্ছন্নতা ও খিঁচুনিসহ বিভিন্ন স্নায়বিক সমস্যা দেখা দেয়। একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে সংক্রমণের হার তুলনামূলক কম হলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এ ভাইরাসকে মহামারীর উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রেখেছে। কারণ, এখনো নিপা ভাইরাসের কোনো কার্যকর প্রতিষেধক বা টিকা নেই। এ ভাইরাসে মৃত্যুহার প্রায় ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ, যা কোভিড–১৯-এর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

** ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত