ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী, তার স্ত্রী তারিন হোসেন, ভাই ও সাবেক সংসদ সদস্য নূর আলম চৌধুরী লিটন এবং তার পিএস শাহাদাৎ হোসেনের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) এ আদেশ দেন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ। অভিযোগপত্রের প্রেক্ষিতে সিআইডির উপ-পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এ নির্দেশ চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, নিক্সন চৌধুরীসহ অন্যান্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্জিত সম্পদ, ফ্ল্যাট, গাড়ি, জমি কিনে মানিলন্ডারিংসহ বিভিন্ন অপরাধের মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাদের মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। অনুসন্ধানের নিরপেক্ষতার জন্য অভিযুক্তদের ২০১০-২০১১ থেকে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত আয়কর নথি জব্দ করা প্রয়োজন। আরও বলা হয়, দুদক অনুসন্ধান শুরু করার পর থেকে তারিন হোসেন এসব সম্পদ ‘হস্তান্তরের’ চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় এসব সম্পদ ক্রোক করা প্রয়োজন।
এর আগে, চলতি বছরের ২০ এপ্রিল মজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন চৌধুরীর স্ত্রী তারিন হোসেনের নামে রাজধানীর গুলশানে থাকা একটি ফ্ল্যাট, গ্যারেজ ও কমনস্পেস জব্দের আদেশ দেয় আদালত। ঢাকা মহানগর মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ জাকির হোসেন গালিবের আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনে এ আদেশ দেন।
দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শিহাব সালামের করা আবেদনে বলা হয়, মুজিবুর রহমান চৌধুরীর স্ত্রী তারিন হোসেনের নামে মোট ১০ কোটি ৩২ লাখ ৮৬ হাজার ৪৩৮ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে জানা গেছে, মুজিবুর রহমান চৌধুরীর গুলশান আবাসিক এলাকায় ১০ কাঠা ৩ ছটাক জমির ওপর নির্মিত দি সেরেনিটি নামে দুটি বেজমেন্টসহ ১৩ তলা আবাসিক ভবনের ৭ম তলার একটি গ্যারেজ ও কমনস্পেসসহ মোট ৫ হাজার ১৭২ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট এবং অচিহ্নিত ১৭০ অযুতাংশ ভূমি রয়েছে। এই সম্পদ ২০১৩ সালের ২৯ জানুয়ারি বণ্টন চুক্তি মোতাবেক মজিবুর রহমান চৌধুরীর প্রথম স্ত্রী মুনতারীন মুজিব চৌধুরীর নামে করা হয়। তার প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় স্ত্রী তারিন হোসেনের নামে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রেশন করা হয়, যা মুজিবুর রহমান চৌধুরী অবৈধ অর্থ দিয়ে ক্রয় করেন।
গত ৯ জানুয়ারি নিক্সন চৌধুরী ও তার স্ত্রী তারিন হোসেনের ব্যাংক হিসাবে তিন হাজার ১৬২ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন এবং প্রায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আলাদা দুটি মামলা করে দুদক। পরে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি নিক্সন চৌধুরী ও তার স্ত্রী তারিন হোসেনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত।
