নতুন মন্ত্রিদের জন্য ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশ পেতে যাচ্ছে নতুন সরকার। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠনের জন্য সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ১৭ ফেব্রুয়ারি ধরে প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের ব্যবহারের জন্য সরকারি পরিবহন অধিদপ্তর ইতোমধ্যে ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত করেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা গতকাল সোমবার এসব গাড়ি পরিদর্শন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম সম্প্রতি জানিয়েছেন, নির্বাচনের পরে দ্রুত সময়ের (১৭ ও ১৮ ফ্রেব্রুয়ারি) মধ্যে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। রাষ্ট্রপতির বাসভবন বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানহবে। এজন্য বঙ্গভবনও প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব জানিয়েছেন, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথের জন্য ইতোমধ্যে ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত রাখতে পরিবহন পুলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিলুপ্ত দ্বাদশ সংসদের কিছু সদস্যের বিশেষ শুল্ক সুবিধায় আনা ৩০টি গাড়িও রয়েছে, যা রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়ে রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অধীনে সরকারি পরিবহন অধিদপ্তরে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে এসব গাড়ি সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের কাছে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল বিকালে বিশেষ শুল্ক সুবিধায় আনা ৩০ গাড়িসহ ৫০টি গাড়ি পরিদর্শন করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এসব গাড়ি দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় নানা সমস্যাদেখা দিয়েছিল। এনবিআরের কাছ থেকে পাওয়ার পরএসব গাড়ির সার্ভিসিং (মেরামত) করা হয়েছে। এজন্য সরকারের ব্যয় হয়েছে ২৯ লাখ টাকা। গাড়িগুলোর পেছনে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা পোর্ট চার্জ দেওয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন খরচ বহন করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নতুন সরকারের শপথের জন্য প্রস্তুতি চলছে। এখনো সুনির্দিষ্ট শপথের তারিখ নির্ধারণ করা যায়নি; তবে ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারি ঘিরে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গাড়ির প্রয়োজন নিয়ে তিনি বলেন, প্রস্তুত রাখার গাড়ির সংখ্যা মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যার ওপর নির্ভরশীল নয়। সরকারের যতগুলো গাড়ি প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়, তা সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের মাধ্যমে ব্যবস্থা করা হয়। আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, শপথের জন্য ইতোমধ্যেই ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে অন্য একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, বিলুপ্ত দ্বাদশ সংসদের সাবেক কিছু সদস্যের বিশেষ শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা গাড়িগুলো খালাস না হওয়ায় দীর্ঘ সময় চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে ছিল। দীর্ঘ সময় পড়ার কারণে গাড়িগুলোর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও ব্যাটারি ক্ষয় হচ্ছিল। ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি এসব গাড়ির ই-নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। নিলামে নাম মাত্র দর দিয়ে (১০ কোটি টাকার গাড়ির দাম মাত্র ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকার মধ্যে) একটি সিন্ডিকেট গাড়িগুলো হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। নিলামে মোট ৪৪টি গাড়ি ছিল, যার মধ্যে ২৪টি বিলাসবহুল গাড়ি। নিলামের শর্ত অনুযায়ী, ভিত্তিমূল্যের ৬০ শতাংশ পূর্ণ না হলেও দ্বিতীয় নিলামে সামান্য বেশি দর দিলে গাড়িগুলো বিক্রি হয়ে যেত। এই সুযোগ কাজে লাগাতে চেয়েছিল সিন্ডিকেট। পরে এনবিআর নিলাম স্থগিত করে গাড়িগুলো সরকারি দপ্তরে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেয়। গাড়িগুলোর মধ্যে ২৬টি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার এবং চারটি টয়োটা হ্যারিয়ার রয়েছে। ২০২৪ সালে জাপানে তৈরি ৩৩৪৬ সিসি ল্যান্ড ক্রুজার জেডএক্স মডেলের ২৪টি গাড়ির সংরক্ষিত মূল্য প্রায় ৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

This will close in 5 seconds