চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (আইআইইউসি) ক্যাম্পাসে ইসলামী ব্যাংকের একটি এটিএম বুথ থেকে ১৭ লাখ টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার দুপুরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা খাবার শেষে ফিরে এসে টাকা গুনতে গিয়ে এই ঘাটতি টের পান। একই সঙ্গে বুথের নিরাপত্তা প্রহরীকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, নকল চাবি ব্যবহার করে ওই প্রহরীই বুথ খুলে টাকা নিয়ে যাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত শনিবার রংপুর জেলা থেকে তাকে টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মীর নাম আইয়ুব আলী (৫৬)। মুঠোফোন ট্র্যাক করে গতকাল তাঁকে রংপুর থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ১৪ লাখ ৮৪ হাজার ৮২৮ টাকা উদ্ধার করা হয়। আজ রোববার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় গত শুক্রবার ব্যাংকের চকবাজার শাখার কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুঈনুল ইসলাম সীতাকুণ্ড থানা মামলা করেন। মামলায় আইয়ুব আলীকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ইসলামী ব্যাংকের চকবাজার শাখার অধীন আইআইইউসির বুথটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি কালেকশন বুথ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। গত বুধবার বেলা তিনটার আগমুহূর্তে ব্যাংক কর্মকর্তা মুঈনুল ইসলাম দুপুরের খাবার খেতে বুথে তালা লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানটিনে যান। আধঘণ্টা পরে বুথে ফিরে এসে টাকা গণনার সময় দেখেন, এক হাজার টাকার নোটের ১৭টি বান্ডিলে থাকা মোট ১৭ লাখ টাকা ক্যাশবাক্স থেকে উধাও হয়ে গেছে। পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আইয়ুব আলী আরেকটি নকল চাবি ব্যবহার করে বুথে প্রবেশ করেন। এরপর ক্যাশ ড্রয়ার থেকে টাকাগুলো একটি টিস্যু ব্যাগে ভরে দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে যান।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার আইয়ুব আলী কক্সবাজার সদর উপজেলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বৈদ্যেরঘোনা এলাকার বাসিন্দা এবং ব্যাংকের দায়ের করা টাকা চুরির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে; ঘটনার পর পুলিশের তদন্ত দল তার কক্সবাজারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে না পেয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রংপুর জেলা সদরে অবস্থান শনাক্ত করে এবং সেখানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে; প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চুরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন, তার কাছ থেকে চুরি হওয়া ১৭ লাখ টাকার মধ্যে ১৪ লাখ ৮৪ হাজার ৮২৮ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকি টাকা খরচ করেছেন বলে জানিয়েছেন; পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
