দুই ব্যবসায়ীকে ডেকে ঘুষ চাইলেন দুই কাস্টমস কর্মকর্তা

কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিস

মুলাদী বন্দরের এক ব্যবসায়ীকে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসে ডেকে মাসোয়ারা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বরিশাল কাষ্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসের রাজস্ব কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম মান ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা। এ ঘটনায় মঙ্গলবার মুলাদী বন্দরের ব্যবসায়ী তুষার কান্তি হালদার ও অপু ফকির উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে রাজস্ব কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম খান ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন মাসোয়ারা চাওয়ার বিষয়টি প্রাধীকার করেছেন।

তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কাষ্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাটের বিভাগীয় কর্মকর্তা সুদীপ্ত। মুলাদী কদরের শশী গৌরনদী মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক তুষার কান্তি হালদার জানান, গত ৫ জানুয়ারি বিকালে রাজস্ব কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম খানসহ বরিশাল ভ্যাট অফিসের ৪-৫ জন তার দোকানে যান। কর্মকর্তা ব্যবসায়ীকে ২-১ দিনের মধ্যে বরিশাল ভ্যাট অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন। পরের দিন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আলমগীর ফোন দিয়ে তুষার হালদারকে অফিসে যাওয়ার তাগিদ দেন। পরে ১১ জানুয়ারি তুমার হালদার বরিশাল আট অফিসে গেলে তাকে দিয়ে বিকাশে ৩ হাজার টাকা ভ্যাট পরিশোধ করান কর্মকর্তা। পরে তার কাছ থেকে ‘অফিস খরচ’ বাবদ আরও ২ হাজার টাকা নেন কর্মকর্তা আলমগীর।

এছাড়া প্রতি মাসে অফিসে ২ হাজার টাকা না দেওয়া হলে মামলা ও জরিমানা করার ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন তুষার হালদার। আরেক ব্যবসায়ী ঢাকা বিরিয়ানী অ্যান্ড কাকি ঘরের ব্যবসায়ী অপু ফকির অভিযোগ করেন, গত ৫ জানুয়ারি রাজস্ব কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম খান ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন তার দোকানে গিয়ে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও আয়করের কাগজপত্র দেখতে চান। কাগজপত্র দেখালেও অসৌজন্যমূলক ব্যবহারের পাশাপাশি কর্মকর্তাদের দাবি-ঠিকমতো ভ্যাট ও আয়কর দেওয়া হয়নি। তারা প্রতি মাসে বরিশাল ভ্যাট অফিসে যোগাযোগ করে ৫ হাজার টাকা ‘মাসোয়ারা’ দিতে বলেন। তাই হয়রানি থেকে বাঁচতে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে আবেদন করা হয়েছে।

অভিযুক্ত রাজত্ব কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, গত ৫ জানুয়ারি মুলাদীতে ইটোটায় অভিযান করা হয়েছিল। ফেরার পথে শশী গৌরনদী মিষ্টান্ন ও ঢাকা বিরিয়ানী হাউজের কাছে ভ্যাট দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে এবং তাদের সচেতন করা হয়েছে। কেউ তাদের কাছে মাসোয়ারা কিংবা টাকা দাবি করেনি। ব্যবসায়ীরা মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ভ্যাট পরিশোধের বিষয়ে সচেতন করতে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করা হয়েছিল। একজন ব্যবসায়ী অফিসে উপস্থিত হয়ে ভ্যাট পরিশোধ করেছেন। কারও কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়নি কিংবা মাসোয়ারা চাওয়া হয়নি। বরিশাল বিভাগীয় কর্মকর্তা সুদীপ্ত জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে বাবস্থা নেওয়া হবে।

This will close in 5 seconds