প্রায় ১৪ মাস পর আবারও সারাদেশে শুরু হচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। অন্ধত্ব প্রতিরোধ ও শিশুর পুষ্টিহীনতা দূর করতে আগামী রোববার এ কর্মসূচি শুরু হবে, যা সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এদিন ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সকালে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস জানান, এবারের ক্যাম্পেইনে মোট ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ছয় থেকে ১১ মাস বয়সী ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ শিশুকে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। দুর্গম এলাকায় শিশুদের আওতায় আনতে বিশেষ ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১২ জেলার ৫৮ উপজেলার ২৯০ ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডে মূল ক্যাম্পেইন শেষে অতিরিক্ত চার দিন ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ডা. মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে এক লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে, যেগুলো সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) নিয়মিত কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন ও বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে আরও ৫০০টি ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভিটামিন এ ক্যাপসুল ইতোমধ্যে আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি, অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করবেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার সকালে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। এতে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন শুরু করা হচ্ছে এবং এর সফল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
