আসন্ন রোজার সময়ে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট এড়াতে সরকার থাইল্যান্ড থেকে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার লিটার সয়াবিন তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই তেল আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) ব্যবহার করে কেনা হচ্ছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর গুদামে পৌঁছে সব খরচ যোগ করে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম দাঁড়াবে ১৬২ টাকা ৬৩ পয়সা। টিসিবি ভর্তুকিমূল্যে এই তেল বাজারে সরবরাহ করবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে থাইল্যান্ড থেকে সয়াবিন তেল আমদানি করার অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রমজান মাসে তেলের সরবরাহ বাড়ানো ও দাম স্থিতিশীল রাখার জন্য জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল কেনার প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি) যাচাই-বাছাই শেষে থাইল্যান্ডের প্রাইম কর্প ওয়ার্ল্ড কোম্পানি লিমিটেড-কে যোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত করে।
সব প্রক্রিয়া শেষে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ১৭৮ কোটি ৪৭ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৭ টাকা ব্যয়ে এই সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্ত হয়। দুই লিটার পেট বোতলে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ধরা হয়েছে ১৩১ টাকা ৪৭ পয়সা। পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ করে টিসিবির গুদাম পর্যন্ত দাম দাঁড়াচ্ছে ১৬২ টাকা ৬৩ পয়সা। এই তেল খোলা বাজারে বর্তমানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হবে, তবে কেনা দামের চেয়ে বেশি দামে। ফলে এতে সরকারের কোনো ভর্তুকি লাগবে না।
এদিকে একই বৈঠকে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকিমূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনারও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৭১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। জানা গেছে, টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী পরিবারের জন্য মসুর ডাল কিনতে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হলে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে চারটি প্রস্তাব কারিগরি ও আর্থিকভাবে যোগ্য বিবেচিত হয়। সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসির সুপারিশে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের এম/এস পায়েল অটোমেটিক ফুড প্রসেসিং মিলসের কাছ থেকে প্রতি কেজি ৭১ টাকা ৮৭ পয়সা দরে এই মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত হয়। তবে বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঢাকার সোনারগাঁও সিডস ক্রাশিং মিলস লিমিটেডের কাছ থেকে প্রতি লিটার ১৮০ টাকা ৮৫ পয়সা দরে ১ কোটি লিটার সয়াবিন তেল কেনার আরেকটি প্রস্তাব আনা হলেও পরে সেটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

