তিন লাখ কোটি বরাদ্দ এডিপিতে, বড় রাজস্বের আশা

আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) চূড়ান্ত করেছে। এই বিশাল উন্নয়ন ব্যয়কে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায়ের আশা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রাজস্ব কর্মকর্তাদের মতে, অবকাঠামো নির্মাণ, যন্ত্রপাতি আমদানি, নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ, ঠিকাদারি কার্যক্রম ও বিভিন্ন সেবা খাতে এডিপির অর্থপ্রবাহের কারণে ভ্যাট, শুল্ক, আয়কর ও উৎসে কর আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

এনবিআরের তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরে এ খাতে সরকারের ব্যয় কম হওয়ায় রাজস্ব আদায়ও কম হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী অর্থবছরে ৩ লাখ কোটি টাকার মধ্যে ন্যূনতম ২ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলে এ খাত থেকে অন্তত ২৭ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হতে পারে, যা চলতি অর্থবছরে ৬-৭ হাজার কোটি টাকার বেশি হবে না। এ খাতে ব্যয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, ১০ শতাংশ এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা আছে। সে হিসাব গড়ে ১০ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করা গেলে ২৭ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হবে বলে মনে করেন তারা।

কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, সরকারের উন্নয়ন ব্যয় যত বাড়ে, ততই করযোগ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে বড় অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যবহৃত রড, সিমেন্ট, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি ও আমদানিনির্ভর উপকরণ থেকে বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ও শুল্ক আদায় হয়। একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, সরবরাহকারী কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট সেবা খাত থেকেও আয়কর ও উৎসে কর আসে।

এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, এডিপির বড় অংশ বাস্তবায়িত হলে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে অর্থপ্রবাহ বাড়বে, যার ফলে ভোগ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজস্ব আহরণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, উন্নয়ন ব্যয় অর্থনীতিতে বহুমাত্রিক প্রভাব ফেললেও এর একটি অংশ বিভিন্ন কর আকারে আবার সরকারের কোষাগারে ফিরে আসে, যা প্রকল্পের ধরন, আমদানিনির্ভরতা ও স্থানীয় মূল্য সংযোজনের ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু বড় এডিপি ঘোষণা করলেই কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব পাওয়া যাবে না; প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি, ব্যয় বৃদ্ধি, দুর্নীতি ও অপচয় নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে সম্ভাব্য রাজস্ব আদায়ও কমে যেতে পারে।