তিন জেলায় জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষ, আহত ৩২

কুমিল্লা–১১, ভোলা–২ ও যশোর–২ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষে অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের জন্য দুই দলই পরস্পরকে দায়ী করেছে। এর মধ্যে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় গতকাল দুপুরে জামায়াত ও বিএনপির নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত সাতজন আহত হন। জানা গেছে, জামায়াতের নেতা–কর্মীরা একটি নির্বাচনী জনসভা শেষে ফেরার সময় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই জনসভায় দলটির আমির শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

গতকাল দুপুরে উপজেলার জগন্নাথদিঘি ইউনিয়নের হাটবাইর এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এদিন উপজেলা সদরের এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জামায়াতের জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কুমিল্লা–১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জামায়াতের প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। ধানের শীষের প্রার্থী কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল হুদা।

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন বলেন, ‘নির্বাচনী জনসভা শেষে আমাদের নেতা-কর্মীরা পিকআপে করে বাড়িতে ফিরছিলেন। হাটবাইর এলাকায় বিএনপির নেতা মিজান খান, গাজী ইয়াছিনসহ অন্তত ২০ জন আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন। তাঁরা আমাদের নেতা-কর্মীদের দেখে উসকানিমূলক বিভিন্ন কথাবার্তা বলেন। আমাদের নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ জানালে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় আমাদের চারজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়।’ জামায়াতের পক্ষের আহত ব্যক্তিরা হলেন দলটির কর্মী রবিউল হোসেন, জাকারিয়া রাসেল, রাসেল ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রশিবিরের নেতা রিফাত সানি।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সংঘর্ষে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সোলেমান চৌধুরী, তাঁর গাড়িচালক মামুনসহ তিনজন আহত হন। আহত বিএনপির নেতা সোলেমান চৌধুরী বলেন, জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা জনসভা থেকে ফেরার পথে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মিজানের বাড়িতে পরিকল্পিতভাবে হামলা করেন। এ সময় নারীদেরও মারধর করা হয়। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির নেতা-কর্মীরা এগিয়ে যান। তখন জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা তাঁদের ওপরও হামলা করেন। চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক ছানা উল্লাহ বলেন, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।

ভোলা

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারবাড়ির সামনে গতকাল সকালে সংঘর্ষে বিএনপি ও জামায়াতের অন্তত ১৫ নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন। ভোলা–২ আসন বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানে বিএনপির প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিম এবং জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা ফজলুল করিম। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামায়াতের নেতা–কর্মীরা প্রচারের কাজে চৌকিদারবাড়িতে প্রবেশের সময় বিএনপির কর্মীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে জামায়াতের টবগী ইউনিয়ন আমির আবদুল হালিম এবং কর্মী মো. ফয়জুল্লাহ, মো. ইমন, মো. শাহে আলম, মো. রায়হান, মো. শামীম, মো. তানজিলসহ ১০ জন আহত হন। আহতদের বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, পরে গুরুতর আহত আবদুল হালিম ও ফয়জুল্লাহকে ভোলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এ ঘটনায় তাঁদের অন্তত পাঁচজন কর্মী আহত হয়েছেন।

বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, সকালবেলা স্থানীয় কিছু নারী পুকুরে গোসল করছিলেন। এ সময় জামায়াতের প্রচার দল একটি বাড়িতে প্রবেশ করলে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানানো হয়। একপর্যায়ে জামায়াতের নেতা-কর্মীরাই উসকানিমূলক আচরণ করলে সংঘর্ষ বাধে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মণ বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাঠানো হয়েছে এবং তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

যশোর

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শ্রীচন্দ্রপুর গ্রামে গতকাল দুপুরে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে, উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে জামায়াতের নারী সদস্যরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন করে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জামায়াতের নারী কর্মীরা ভোটারদের সমর্থন আদায়ে শ্রীচন্দ্রপুরে প্রচারে গেলে বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা সেখানে জড়ো হলে সংঘর্ষে রূপ নেয়। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

বিকেলের সমাবেশে যশোর-২ (ঝিকরগাছা ও চৌগাছা) আসনের জামায়াতের প্রার্থী মোসলেউদ্দিন ফরিদ বলেন, জামায়াতের নেতা-কর্মীদের দুর্বল মনে করলে বিএনপি ভুল করবে। বারবার আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে এবং ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। একই আসনের বিএনপি প্রার্থী সাবিরা নাজমুল বলেন, “জামায়াত কর্মীরা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের মতো পোশাক পরে প্রস্তুতি নিয়ে এসে আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা ঘটনার সূত্রপাত করেছে।

This will close in 5 seconds