বাটার অনলাইন শপিং থেকে এক জোড়া জুতা অর্ডার করলেন। সাইজ দিলেন ৮ নাম্বার। দাম পরিশোধ করলেন ৩ হাজার ৭৪৯ টাকা। কিন্তু গ্রাহকের বাসায় পাঠানো হলে ৯ নাম্বার জুতা। এই যেন গ্রাহকের সঙ্গে বহুজাতিক বাটা কোম্পানির এক ধরনের হটকারীতা। এখানেই শেষ নয়। গ্রাহক সঙ্গে সঙ্গে বাটার কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করলেন। সেখান যোগাযোগ করে গ্রাহক আরো হয়রানির শিকার হলেন। গ্রাহককে বাটার পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হলে যে, ৮ সাইজের জুতা ঢাকায় নেই। গ্রাহকের অর্ডার করা সেই ৮ সাইজের জুতা নিতে হলে গ্রাহককে সিলেট অথবা ময়মনসিংহে বাটার শো-রুমে যেতে হবে। ভুক্তভোগী গ্রাহকের প্রশ্ন হলো, বাটার মতো একটি প্রসিদ্ধ কোম্পানির জুতা কিনলাম ঢাকায়। বাটার পক্ষ থেকে জুতার সাইজ পরিবর্তের জন্য সিলেট বা ময়মনসিংহ শো-রুমে যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এক জোড়া জুতার সাইজ পরিবর্তন করতে আমি টাকা খরচ করে ঢাকার বাইরে যাবো? বাটার এই হটকারীতা ও হয়রানির বিষয়ে ইতোমধ্যে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক জামিল চৌধুরী।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বহুজাতিক বাটা কোম্পানি কাছে গ্রাহক হয়রানি কাম্য নয়। গ্রাহক অর্ডারে সাইজ নির্দিষ্ট করে দিলেও তাকে সেই জুতা দেয়া হয়নি। প্রায় পৌনে ৪ হাজার টাকার জুতা কিনেও গ্রাহক সঠিক জুতা পেলো না। উল্টো গ্রাহককে ঢাকার বাইরের শো-রুমে গিয়ে সাইজ মেলাতে বলেছে। কত বড় স্পর্ধা বাটার! বাটার বিরুদ্ধে এর আগেও গ্রাহককে হয়রানি, নিম্নমান ও মেয়াদোত্তীর্ণ জুতা দেওয়া, দাম বেশি রাখাসহ নানান ধরনের অভিযোগ রয়েছে। সঠিক বিচার না করলে বাটা কোম্পানি শোধরাবে না। এছাড়া ব্যবস্থা না নিলে অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে গ্রাহকের আস্থা তৈরি হবে না।
অপরদিকে, রাজধানীর বনানী এলাকার বাসিন্দা জামিল চৌধুরী লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, তিনি ২৪ অক্টোবর বাটার অনলাইন শপিং স্টোর থেকে একটি জোড়া জুতা অর্ডার করেন। অর্ডারের সময়-ই তিনি জুতার দাম হিসেবে ৩ হাজার ৭৪৯ টাকা সম্পূর্ণ পেমেন্ট করেন। জুতার কালার ও সাইজ ৮ নির্বাচন করেন। অর্ডার ইনভয়েসেও জুতার ৮ নাম্বার সাইজ উল্লেখ রয়েছে। ২৬ অক্টোবর গ্রাহক জামিল চৌধুরীর অফিসের ঠিকানায় ডেলিভারি বয়ের মাধ্যমে জুতা পাঠানো হয়। জামিল চৌধুরীর অফিসের কর্মচারী ডেলিভারি বয় থেকে জুতা গ্রহণ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, আমার অফিস কর্মচারী পণ্যটি গ্রহণ করেন এবং কোন দৃশ্যমান ত্রুটি আছে কিনা-তা দেখে নেন। ইনভয়েসে স্পষ্টভাবে সাইজ ৮ এবং পণ্যের মূল্য উল্লেখ ছিল। সে অনুযায়ী তারা পণ্যটি গ্রহণ করে। পরবর্তীতে আমি নিজে যখন জুতাটি হাতে পাই এবং পরার চেষ্টা করি, তখন দেখি সাইজ বড় লাগছে। পণ্যের ভেতরের সাইজ লেবেল পরীক্ষা করে দেখি এটি সাইজ ৯, যা আমি অর্ডার করিনি। আমি সঙ্গে সঙ্গে বাটার কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করি এবং বিষয়টি জানাই। তারা আমাকে জানায় যে, পণ্য গ্রহণের সময় যাচাই করে না নেওয়াটা আমার ভুল এবং এটি তাদের নীতিমালা। আমি অর্ডার গ্রহণ করায় তারা আর কোনো সহায়তা করতে পারবে না বলে জানায়।
জামিল চৌধুরী বলেন, আমার প্রশ্ন হলো, আমি তো সাইজ ৮ এর জন্য অর্ডার করেছি এবং সেটিই গ্রহণ করেছি। বাটা ভুলভাবে সাইজ ৯ পাঠিয়েছে। আমি কখনোই সাইজ ৯ অর্ডার করিনি কিংবা সেই অর্ডার কনফার্ম করিনি। ভুলটা স্পষ্টতই তাদের পক্ষ থেকে হয়েছে। আমি দ্বিতীয়বার কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করি। তারা জানায়, ৮ সাইজের এই কোয়ালিটির জুতা ঢাকার কোনো শো-রুমে নেই। ৮ সাইজের জুতা নিতে হলে তাকে সিলেট বা ময়মনসিংহে বাটার শো-রুমে যেতে হবে। কোম্পানির ভুলের কারণে আমি গাড়ি ভাড়া করে শত কিলোমিটার দূরে যাবে, এটা তো এক ধরনের হয়রানি।

এই ভোক্তা বলেন, আমার কাছে ইনভয়েসসহ সকল প্রমাণ রয়েছে। আমি ভোক্তা হিসেবে এই হয়রানির সঠিক প্রতিকার চাই। বাটার এমন গাফিলতি ও গ্রাহকবিরোধী নীতিমালার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। বড় কোম্পানিগুলোর অনলাইন সেবা গ্রহণে গ্রাহক যেন কোনোভাবেই প্রতারিত বা হয়রানির শিকার না হয়, সেটি নিশ্চিত করার জন্য ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রতি অনুরোধ জানান জামিল চৌধুরী।
এই বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, গ্রাহক অনলাইনে বাটার হয়রানি বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। আমি অফিসে গিয়ে বিষয়টি খোঁজ নেবো।
** বাটার জুতা কিনে প্রতারণার শিকার, ভোক্তার কাছে চিঠি
** ১৩শ টাকার জুতা ১৯শ টাকায় বিক্রি, বাটাকে জরিমানা
** জরিমানা দিতে বাধ্য হলো বাটা
** ছেঁড়া জুতা ফেরত না নেওয়ায় বাটাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা
