চলতি মাসের ২৯ দিনে দেশে ৩ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যা ডলারসংকট মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। একই সময়ে ব্যাংক থেকে ডলার কেনার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক–এর বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ বেড়ে ৩৩ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। এটি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রিজার্ভ। এর আগে ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো দেশের রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল। পরে ২০২১ সালে তা বেড়ে সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তবে আওয়ামী লীগ সরকার–এর পতনের সময় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ২৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।
চলতি মাসের প্রথম ২৯ দিনে দেশে আসা প্রবাসী আয় ৩ বিলিয়ন ডলার বা ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। এই সময়ে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ৩০৪ কোটি ডলার। গত বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার–এর পতনের পর থেকে প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত মার্চে প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়। ওই মাসে দেশে আসে ৩২৯ কোটি ডলার, যা এখন পর্যন্ত একক কোনো মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। এর পর চলতি মাসেও প্রবাসী আয় আবার ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক–এর তথ্যানুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। এর আগের ২০২৩–২৪ অর্থবছরে প্রবাসী আয় ছিল ২ হাজার ৩৯১ কোটি ডলার। প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ফলে ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি বিদেশি ঋণ প্রবাহও অব্যাহত থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল–এর হিসাবপদ্ধতি বিপিএম–৬ অনুযায়ী দেশের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৫১ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার নিলামের মাধ্যমে সাতটি ব্যাংক থেকে ৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে এসব ডলার কেনা হয়। এর ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার কেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ১৩ বিলিয়ন বা ৩১৩ কোটি ডলার। এর মধ্যে শুধু ডিসেম্বর মাসেই ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, ডিসেম্বর শেষে রিজার্ভ ৩৪-৩৫ বিলিয়নে পৌঁছাবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা কোনো সংস্থার ঋণে নয়, নিজেদের দেশ থেকে ডলার কিনেই রিজার্ভ বাড়ানো হবে। এটাই ভালো সিদ্ধান্ত।
