টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: স্বাধীন তদন্ত চেয়ে হাই কোর্টে রিট

বাজারে প্রচলিত ২৮টি টুথপেস্টে মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’ থাকার সংবাদ প্রকাশের পর এ বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন সোমবার জনস্বার্থে এ আবেদন করেন। তিনি জানান, বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে।

রিট আবেদন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আজ অনেকগুলো জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিভিন্ন টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে এবং একেকটি নমুনায় এর পরিমাণ ২০ থেকে ৩২০টি কণা পর্যন্ত। আমরা মনে করি, এটি মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে।

দেশীয় ব্র্যান্ডের পাশাপাশি থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ভারত থেকে আমদানি করা কয়েকটি টুথপেস্টেও ক্ষতিকর উপাদান থাকার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন। মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিরূপণ করে প্রতিবেদন প্রকাশের নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়েছে। আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন দাবি করেন, তুলনামূলক বেশি দামের এবং চিকিৎসকদের পরামর্শে ব্যবহৃত কিছু টুথপেস্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য বাজারজাত ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতে এই উপাদান শনাক্ত হয়েছে এবং কয়েকটি উচ্চমূল্যের টুথপেস্টে এর উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মানুষ প্রতিদিন সকালে যে পণ্যটি দিয়ে দিন শুরু করে, সেটিই যদি ক্ষতিকর হয়, তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক—দিনের শুরু ও শেষ দুটোই যেন ক্ষতিকর উপাদানের মধ্য দিয়ে হচ্ছে।
Toothpaste 1
আইনজীবী জানান, আপাতত বাজার থেকে কোনো টুথপেস্ট প্রত্যাহারের নির্দেশনা চাওয়া হয়নি; মূলত একটি স্বাধীন তদন্তের আবেদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে এসব টুথপেস্ট মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ বাজার থেকে প্রত্যাহারের বিষয়েও আবেদন জানানো হবে। এ রিটে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই)-এর মহাপরিচালক, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং পুলিশের মহাপরিদর্শককে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক অধিকার অনুচ্ছেদের ‘পরিপন্থি’। সংবিধানে রাষ্ট্রকে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবেশের উন্নয়ন এবং পুষ্টির স্তর বৃদ্ধির যে প্রাথমিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তা যথাযথভাবে পালনে অনীহা দেখিয়েছে। ফলে মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটি ব্যবহারের জন্য নিরাপদ থাকছে না, বরং তা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় মান অনুযায়ী টুথপেস্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিবাদীদের ব্যর্থতাকে কেন ‘বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত’ ঘোষণা করা হবে না—সে বিষয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সমন্বয়ে বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে এবং ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকযুক্ত টুথপেস্টের উৎপাদন, সরবরাহ ও আমদানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।