রংপুরে তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে কৃষিতে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ডিজেলের অভাবে প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে সেচ পাম্পগুলো। বোরো ধানের ক্ষেত শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে পড়েছে, এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। সময়মতো জমিতে সেচ দিতে না পারলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ। সংকট নিরসনে দ্রুত ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন। শনিবার গংগাচড়া উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, ডিজেলের অভাবে অধিকাংশ সেচ পাম্প বন্ধ হয়ে আছে এবং সময়মতো জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, ফলে ফসল নষ্টের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কৃষকরা জানান, বোরো ধানের জমিতে নিয়মিত সেচ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু ডিজেলের অভাবে জমি শুকিয়ে যাচ্ছে। আগে সহজে ডিজেল পাওয়া গেলেও এখন ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছেন না তারা। অনেক ক্ষেত্রে দুই-তিন লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না, যা দিয়ে কয়েক ঘণ্টাও সেচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। গংগাচড়া উপজেলার কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, জমিতে পানি দিতে না পারলে সব শেষ হয়ে যাবে, তেল না পেয়ে আমরা এখন অসহায়। একই উপজেলার আরেক কৃষক সাত্তার মিয়া বলেন, বোতল নিয়ে তেল নিতে গেলে পাম্পের ম্যানেজার জানান, বোতলে তেল দেওয়া হবে না, শ্যালো মেশিন নিয়ে আসতে হবে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, বাবা স্যালো মেশিন নিয়ে কী পাম্পে যাওয়া যায়? আমরা কৃষক মানুষ এত টাকা খরচ করি কীভাবে নিয়ে যাব? এভাবে চলতে থাকলে আমাদের আর আবাদ করা হবে না। এরপরও ধান ক্ষেত বাঁচাতে শ্যালো মেশিন নিয়ে কোনো কোনো কৃষক পাম্পে যাচ্ছেন। আর এতে কৃষকের সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে। কৃষি বিভাগ থেকে জানা গেছে, রংপুর অঞ্চলের বেশিরভাগ সেচ ব্যবস্থা ডিজেল নির্ভর। কিন্তু বর্তমান সংকটে সেচ কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এবারে এ জেলায় এক লাখ ৩২ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কৃষক নেতারা বলছেন, এ সময় জমিতে পর্যাপ্ত সেচ দিতে না পারলে বোরো ধানের ফলন অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।
জ্বালানি সংকটের জন্য সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করে ক্ষেত মজুর পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন বাবলু বলেন, সরকারের পর্যাপ্ত মনিটরিংয়ের অভাবে ডিজেলের সংকট তৈরি হয়েছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। সময়মতো ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে দেশ ‘দুর্ভিক্ষের’ মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এ ক্ষেত মজুর নেতা। অন্যদিকে বিদ্যুৎচালিত সেচ ব্যবস্থার ওপরও ভরসা করতে পারছেন না কৃষকেরা, কারণ ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সেই ব্যবস্থাও কার্যকর হচ্ছে না, ফলে সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। এ বিষয়ে রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং দ্রুত ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি কৃষকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার কথাও ভাবা হচ্ছে।
