মে মাসের শুরুটা হয়েছিল বৃষ্টির মধ্য দিয়ে। তবে মাসের শেষদিকে এসে বৃষ্টিপাত কমে যায় এবং তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে ওঠে। তবুও গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর মে মাসে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ বা তীব্র ভ্যাপসা গরমে খুব বেশি ভুগতে হয়নি দেশের মানুষকে। মাসজুড়ে থেমে থেমে হওয়া বৃষ্টিপাত তাপমাত্রাকে সহনীয় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। তবে জুনের শুরুতে আবহাওয়ার চিত্রে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। ফলে বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তিও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রোববার (৩১ মে) আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১২০ ঘণ্টার বিশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি শক্তিশালী পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ অবস্থান করছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, জুনের প্রথম সপ্তাহজুড়ে দেশের আবহাওয়া পরিবর্তনশীল থাকতে পারে। কোথাও বৃষ্টি, কোথাও রোদ—এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বজ্রপাত, দমকা হাওয়া এবং ভারী বৃষ্টির সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশটি পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিরাজমান রয়েছে। এ অবস্থায় সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এছাড়া আগামী বুধবার পর্যন্ত সারাদেশে তাপমাত্রা একইরকম থাকতে পারে। এ সময়ে দেশের কিছু কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে। আগামী সপ্তাহে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু টেকনাফ উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারে এবং বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।
