জমি-ফ্ল্যাটের নিবন্ধন খরচ ৫০% কমানোর সুপারিশ

জমি ও ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে নিবন্ধন ব্যয় ৫০ শতাংশ কমানোর সুপারিশ করেছে জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস–সংক্রান্ত কমিটি। বর্তমানে ফ্ল্যাট নিবন্ধনের সময় কর ও নিবন্ধন ফি মিলিয়ে যে ব্যয় গুনতে হয়, তা অর্ধেকে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখন ঢাকা মহানগরে জমি বা প্লট ও ফ্ল্যাট নিবন্ধনে মোট ব্যয় সাড়ে ১২ শতাংশ, অর্থাৎ ১ কোটি টাকার সম্পদ নিবন্ধনে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) বাংলাদেশের চেয়ারম্যান জায়েদী সাত্তারের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস–সংক্রান্ত কমিটি গত মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে জমি ও ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আরও কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে যেকোনো স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে বাজারমূল্যের ১ শতাংশ হারে কর কর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে মা–বাবা, স্ত্রী–সন্তান ও ভাই–বোনের মধ্যে অর্থসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি উপহার দিলে কোনো কর আরোপ হয় না।

বর্তমানে জমি বা সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে উৎসে কর ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫ শতাংশ, অন্যান্য সিটি করপোরেশনে ৩ শতাংশ এবং পৌরসভা এলাকায় ২ শতাংশ হারে আদায় করা হয়। পাশাপাশি জমি বা প্লট এবং ফ্ল্যাট নিবন্ধনের সময় উৎসে করের বাইরে দেড় শতাংশ স্ট্যাম্প শুল্ক, ১ শতাংশ নিবন্ধন ফি, ৩ শতাংশ স্থানীয় সরকার ফি এবং ২ থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়। এর মধ্যে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ বর্গফুট পর্যন্ত ফ্ল্যাটে ভ্যাট ২ শতাংশ এবং এর বেশি আয়তনের ফ্ল্যাটে সাড়ে ৪ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য। জমি বা প্লটের ক্ষেত্রে ভ্যাট ২ শতাংশ। ফলে ঢাকার গুলশানে ১ হাজার ৬০০ বর্গফুটের কম আয়তনের একটি ফ্ল্যাট নিবন্ধনে মোট ব্যয় দাঁড়ায় সাড়ে ১২ শতাংশ।

ব্যাংক হিসাবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জমার ওপর আবগারি শুল্ক সম্পূর্ণ বাতিলের সুপারিশ করেছে জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস–সংক্রান্ত কমিটি। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতের ক্ষেত্রে ৩ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক আরোপ থাকবে। বর্তমানে ব্যাংক হিসাবে ৩ লাখ টাকার বেশি টাকা থাকলেই ন্যূনতম ১৫০ টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হয়; এই সীমা বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে কোনো ব্যাংক হিসাবে আমানত বা স্থিতি যদি একবারও নির্ধারিত সীমা—তিন লাখ টাকা বা তার বেশি—স্পর্শ করে, তাহলে নির্ধারিত হারে আবগারি শুল্ক কাটা হয়। একই হিসাব একাধিকবার সীমা অতিক্রম করলেও আবগারি শুল্ক একবারই আরোপ করা হয়।

এ ছাড়া চার কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে আয়করের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে সারচার্জ দিতে হয়। জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত কমিটি এই ধরনের সারচার্জ বাতিলের সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া রিটার্ন জমার সময় করযোগ্য আয় থাকলে ন্যূনতম কর পাঁচ হাজার টাকা। এতে করমুক্ত আয়সীমার কিছুটা ওপরে থাকা ছোট ছোট করদাতাদের ওপর চাপ সৃস্টি হয়। ন্যূনতম কর দেওয়ার বিধান তুলে দেওয়ার সুপারিশ করেছে জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত কমিটি।

This will close in 5 seconds