দেশি-বিদেশি ৬ এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠানের কাছে ২ হাজার ১২৬ কোটি টাকা পাবে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, রিজেন্ট এয়ার, ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার, জিএমজি এয়ারলাইন্স ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছেই পাওনা রয়েছে ১ হাজার ৭৮৬ কোটি ৯৬ হাজার ৩৪৬ টাকা। বকেয়া রাজস্ব আদায়ে দফায় দফায় চিঠি চালাচালি করেও তেমন কোনো ফল মিলছে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে ২৫ বছরে ১৫টি এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করেছে। বর্তমানে শুধু দুটি বিদেশি এয়ারলাইন্সই এখানে ফ্লাইট চালাচ্ছে। এতে চট্টগ্রাম থেকে আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াতকারী যাত্রীরা সমস্যার মুখে পড়ছেন। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসাবে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো একের পর এক ফ্লাইট বন্ধ করছে। ফলে শাহ আমানত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে, আর চট্টগ্রামের যাত্রীরা বাধ্য হয়ে ঢাকা হয়ে আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
সূত্র জানায়, বছরে ৬ লাখ যাত্রী সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রায় ১৭ লাখ যাত্রী হ্যান্ডলিং করছে। এর ফলে যাত্রীদের পদে পদে ভোগান্তি করতে হচ্ছে। এক সময়ে ৩০০-৪০০ যাত্রীর ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার জন্য পর্যাপ্ত কাউন্টার নেই। দুটি লাগেজ বেল্ট ব্যবহার করেও এত যাত্রী সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, ফলে বেল্ট কক্ষে জটলা সৃষ্টি হচ্ছে। যাত্রী সংখ্যা বেশি হলে একেকটি লাগেজ নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।
শাহ আমানতে ফ্লাইট কার্যক্রম সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে, কিন্তু আন্তর্জাতিক রুটের বেশির ভাগ বিমান সংস্থা ২৪ ঘণ্টা ফ্লাইট চলাচলের ব্যবস্থা চায়। বিদেশি বিমান সংস্থার সীমিত ফ্লাইট থাকার কারণে চট্টগ্রামভিত্তিক যাত্রীরা বাধ্য হয়ে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের মাসকাট হয়ে ইউরোপ, আমেরিকা, চীনসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এতে আকাশপথে সময় ও খরচ উভয়ই বেড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
শাহ আমানত বিমানবন্দরের হিসাব শাখা সূত্র জানায়, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ছয় ধরনের অ্যারোনটিক্যাল চার্জ আদায় করে—নিয়ন্ত্রণকক্ষ, রানওয়ে, অ্যাপ্রোন এরিয়া, টার্মিনাল, বোর্ডিং ব্রিজ, অ্যাম্বারকেশন, ওভার ফ্লাই ল্যান্ডিং-ফ্লাই এবং বিমান পার্কিং। এসব খাত থেকে ৬ এয়ারলাইন্সের কাছে দীর্ঘদিন ধরে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব বকেয়া রয়েছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১২৬ কোটি ৪৩ লাখ ৬০ হাজার ২৭৭ টাকা, যার মধ্যে মূল বিল ৩৪৮ কোটি ৯৬ লাখ ২১ হাজার ১৩৭ টাকা, ভ্যাট ৯৫ কোটি ৭১ লাখ ৭১ হাজার ৭১৮ টাকা এবং সারচার্জ ১ হাজার ৬৮১ কোটি ৭৫ লাখ ৬৭ হাজার ৪২৩ টাকা।
এই ৬টির মধ্যে তিনটি এয়ারলাইন্স বকেয়া পরিশোধ না করেই কার্যক্রম বন্ধ করেছে। এর মধ্যে রিজেন্ট এয়ারের কাছে পাওনা ২৫২ কোটি ৫৬ লাখ ৮৯ হাজার ৪৮ টাকা, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের কাছে ৫৪ কোটি ৯৬ লাখ ৪১ হাজার ৯৮৩ টাকা এবং জিএমজি এয়ারলাইন্সের কাছে ২৯ কোটি ৩০ লাখ ৫০ হাজার ৪২৯ টাকা। এছাড়া ইউএস-বাংলার কাছে ২ কোটি ৩৮ লাখ ৩৩ হাজার ৭৮৭ টাকা এবং নভো এয়ারের কাছে ১ কোটি ২০ লাখ ৪৮ হাজার ৬৮৪ টাকা পাওনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উপপরিচালক সাধন কুমার মোহন্ত বলেন, ‘পরিচালক স্যার (গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর) ওমরাহ করতে সৌদি আরব গেছেন। এ বিষয়ে তিনি ভালো বলতে পারবেন। আমি শুধু রুটিন দায়িত্ব পালন করছি।’

