সাতটি পণ্য আমদানির ঘোষণা ছিলো। সাতটির মধ্যে ছয়টি পণ্য ঘোষণার চেয়ে কম আমদানি করা হয়েছে। কিন্তু ওই ছয়টি পণ্যের আড়ালে একমাত্র প্যাডলক ঘোষণার চেয়ে অতিরিক্ত আমদানি করা হয়েছে। কারণ অন্য ছয়টি পণ্যের চেয়ে প্যাডলকের চাহিদা বেশি, আমদানি শুল্কও বেশি। আমদানিকারক ভাবলেন ছয়টি পণ্যের আড়ালে প্যাডলক অনায়াসে খালাস করতে পারবেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের গোয়েন্দা শাখা অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) কর্মকর্তাদের হাতে ধরা পড়ে জরিমানার মুখে পড়লেন ঢাকার মৌলভী বাজারের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নেহাল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল। আমদানিকারককে শুল্ক ফাঁকিতে সহায়তা করেছেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এম এম এন্টারপ্রাইজ।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সূত্রমতে, চকবাজার মৌলভীবাজারের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নেহাল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিষ্ঠানটি চীন থেকে ৫২ হাজার ৫৮৫ ডলার মূল্যের এক হাজার ২৭২ কার্টন পণ্য আমদানি করে। যাতে ঘোষণা দেওয়া হয় প্লাস বা সাঁড়াশি (পিলার), প্যাডলক, এডজাস্টেবল রেঞ্জ, শানপাথর, হ্যাকস ব্লেড বা করাতের ব্লেডসহ সাতটি পণ্যের ঘোষণা দেয়। পণ্য খালাসের জন্য ২৩ জুলাই চট্টগ্রামের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এম এম এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয়। কিন্তু ঘোষণার অতিরিক্ত এবং উচ্চ শুল্কের পণ্য আমদানি করা হয়েছে-এমন তথ্যের ভিত্তিতে পণ্য চালানটি লক করে এআইআর এর কর্মকর্তারা। পরে চালানটি শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হয়। যাতে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি যে সাতটি পণ্যের ঘোষণা দিয়েছে, তার মধ্যে ছয়টি পণ্য ঘোষণার চেয়ে কম আমদানি করা হয়েছে। একমাত্র প্যাডলক ঘোষণার চেয়ে ১৪ হাজার কেজি অতিরিক্ত আমদানি করা হয়েছে। এই প্যাডলক আমদানিতে শুল্ককর ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ।
কায়িক পরীক্ষার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাতটি পণ্যের মধ্যে পিলার ঘোষণার চেয়ে এক হাজার ৬৬০ কেজি, এডজাস্টেবল রেঞ্জ এক হাজার ১১১ কেজি, শানপাথর এক হাজার ৬৫৬ কেজি, হ্যাকস ব্লেড এক হাজার ৬১১ কেজি, পেইন্ট ব্রাশ এক হাজার ৪৩০ কেজি, হ্যামার দুই হাজার ৭৮৭ কেজি কম আমদানি করা হয়েছে। একমাত্র প্যাডলক ঘোষণার চেয়ে ১৪ হাজার কেজি অতিরিক্ত আমদানি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট ঘোষিত পণ্যের পরিমাণ ২৬ হাজার ৩৬৬ কেজি। কিন্তু কায়িক পরীক্ষায় ঘোষণার চেয়ে ৩ হাজার ৭৪৪ কেজি বেশি পণ্য পাওয়া গেছে। আমদানিকারক মিথ্যা ঘোষণা দিয়েছেন। আমদানি করা পণ্যের মোট শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ১ কোটি ১৫ লাখ ৭০ হাজার ৩৭৭ টাকা। মিথ্যা ঘোষণা দেওয়ায় কাস্টমস আইন অনুযায়ী চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার প্রতিষ্ঠানকে ৪৮ লাখ টাকা জরিমানা ও ৫ লাখ টাকা বিমোচন জরিমানা করে সম্প্রতি বিচারাদেশ জারি করেছেন।
