Header – After

চিকন চালের দাম উর্ধ্বমুখী, সবজিতেও নেই স্বস্তি

পুরনো চাল থাকা সত্ত্বেও বাজারে নতুন ‘ব্রি-২৮’ চাল এসেছে। মোটা চালের দাম প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও চিকন বা সরু চালের কেজিতে গত সপ্তাহে ৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি হয়েছে। নিত্যপণ্যের বাজারে শাকসবজিতেও সুখবর নেই। শীতকালীন সবজির সরবরাহ ঠিক থাকলেও দাম প্রত্যাশা অনুযায়ী কমেনি। শুক্রবার ঢাকার শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা ও যাত্রাবাড়ীর বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এসব বাজারে এক কেজি দেশি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৮৮–৯০ টাকায়, যা সপ্তাহ খানেক আগে ৮৫ টাকায় পাওয়া যেত।

শান্তিনগরের মদিনা রাইস ট্রেডার্সের মালিক আলম মিয়া বলেন, বাজারে ভরপুর চাল আছে; ট্র্রাকে-ট্রাকে নিতে পারবেন। তারপরও দেশি ও ভারতীয় নাজিরশাইলের দাম বাড়ছে। এক সপ্তাহের মধ্যে ৫ টাকা বাড়ছে মোকামে। বিক্রেতারা বলছেন, বড় বড় বিক্রেতা বা কোম্পানির চালের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। ছোট ছোট ব্যবসায়ী কিংবা চাতালে প্রস্তুত করা চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা।

চিকন চালের দাম বৃদ্ধির তথ্য দিয়ে সেগুনবাগিচা বাজারের বিক্রেতা শরিয়তপুর ট্রেডার্সের মোহাম্মদ মামুন বলেন, মিনিকেটের দাম বাড়ছে। এখন ইন্ডিয়ান চাল তো আমদানি বন্ধ শুনছি, তাই মোকাম দাম বাড়ায়া দিছে। এ বাজারে দেশি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৮৮ থেকে ৯০ টাকায়। অন্যদিকে আগে আমদানি করা ভারতীয় নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা কেজি দরে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৮০ টাকা।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মাসে বাজারে আমন ধানের চাল আসতে শুরু করেছে। পুরনো চালও এখনও রয়েছে, তবে শেষ হওয়ার পথে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বার্ষিক চালের চাহিদা ৩ কোটি ৭০ লাখ থেকে ৩ কোটি ৯০ লাখ টনের মধ্যে। ঢাকার বাজারে বিভিন্ন জেলার মিলারদের কাছ থেকে যে পরিমাণ চাল আসে, ব্যবসায়ীদের মতে, তার চেয়ে বেশি আসে করপোরেট কোম্পানি থেকে। গত এক দশকে চার-পাঁচটি বড় কোম্পানি চালের বাজারে প্রবেশ করেছে। এসব কোম্পানি ৫ থেকে ৫০ কেজির বস্তা বাজারজাত করছে।

সবজির দামে স্বস্তি নেই

বাজারে সরবরাহে কোনো ঘাটতির তথ্য পাওয়া না গেলেও শীতকালীন সবজির দাম কমেনি। বরং টমেটো, সালগম, সিম ও বেগুনের মতো কিছু সবজির দাম বেড়েছে। সেগুনবাগিচার কাঁচাবাজারে প্রতিকেজি সালগম বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৩০ টাকা। দেশের টমেটোর কেজি দাম আগের সপ্তাহে ১০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে দুই সপ্তাহ আগে তা ৮০–৯০ টাকার মধ্যে ছিল। মৌসুমের শুরুতে টমেটোর দাম ১২০ টাকায় ওঠেছিল, তারপর দুই সপ্তাহে ৭০–৮০ টাকায় নেমে আসে।

যাত্রাবাড়ীতে কাঁচামরিচের দাম আগের মতো ১২০ টাকা দরে রয়েছে। বড় গোল বেগুনের কেজি ১০ টাকা বেড়ে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিচিযুক্ত সিমের দাম আগের মতো ৬০ টাকা হলেও, অন্যান্য সিমের দাম বেড়েছে; আগের সপ্তাহে ৩০ টাকায় পাওয়া যাওয়া বিচি ছাড়া সিম এখন ৪০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। করোল্লার কেজি ৮০ টাকা, একেকটি ফুলকপি ২০ টাকা এবং পেঁয়াজ পাতার আঁটি ২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া প্রতি ডজন ডিমের দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় ১০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম জানান, ডিমের দাম আগে সবচেয়ে কম ছিল, কিন্তু এখন আগের অবস্থানে ফিরে গেছে।