দেশে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান মূল্যস্ফীতি কমানো যাচ্ছে না। তবে যাত্রাবাড়ী, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে চাঁদাবাজি এবং পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি এখনও চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবহন বাজারে চাঁদাবাজি বন্ধ হলে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে।আজ বুধবার রাজধানীর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) কনফারেন্স হলে আয়োজিত ‘ভোক্তার কাঁধে বাড়তি করের বোঝা: উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন বিকেএমই সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি, তাদের মধ্যে ছিলেন অর্থনীতিবিদ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ, অর্থনীতিবিদ ড. এম এম আকাশ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক ড. মুস্তফা কে মুজেরী, রাজস্ব বোর্ডের সাবেক সদস্য রেজাউল হাসান, বিকেএমই সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আশরাফ আহমেদ, ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট নাজের হোসাইন, এসিআই ফুডসের চিফ বিজনেস অফিসার ফারিয়া ইয়াসমিন, এসএমসি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফ উদ্দিন নাসির, বাংলাদেশ অটো বিস্কুট অ্যান্ড ব্রেড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শফিকুর রহমান ভূঁইয়া, বাপা সভাপতি এমএ হাশেম, ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা, সাবেক ব্যাংকার সাইফুল হোসেন এবং সুপার মার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গণমাধ্যমে শুনেছেন যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতি রাতে দেড় কোটি টাকা চাঁদা পেতেন, তবে এখনো চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন বাজারে চাঁদাবাজি চলছে এবং পরিবহন খাতেও চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে, যা মূল্যস্ফীতি কমাতে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি আরও বলেন, রপ্তানিমুখী শিল্পের পণ্য পরিবহনেও হয়রানি হচ্ছে, যেখানে গাড়ি আটকে জরিমানা করা হচ্ছে এবং এলসি, ইউডির কপি চাওয়া হচ্ছে, যা কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়। এই অবিচার বন্ধ হলে শিপমেন্টে বাধা কমবে।
মোহাম্মদ হাতেম অভিযোগ করেন, রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য যেটি জিরো ভ্যাট হওয়া উচিত, সেখানে বিভিন্ন অজুহাতে ভ্যাট চাপানো হচ্ছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, এক ব্যবসায়ীর ১১ কোটি টাকার ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে কোনো সই ছাড়াই, এবং পরে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে সেটি ২-৩ কোটি টাকায় কমানো হতে পারে। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা রপ্তানির স্বার্থে দেশের ভ্যাট সিস্টেমের নামে হয়রানি চান না।
