দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। আমদানিকৃত জ্বালানি দ্রুত খালাসের লক্ষ্যে বন্দরে ভিড়তে যাচ্ছে আরও দুটি বড় জাহাজ। বর্তমানে খালাস প্রক্রিয়ায় থাকা ‘চ্যাং হ্যাং হং তু’ ও ‘এলপিজি সেভেন’-এর মধ্যে প্রথমটি বুধবার এবং দ্বিতীয়টি আগামী শুক্রবার (২০ মার্চ) বন্দরে পৌঁছাবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন এই দুই জাহাজের আগমন জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ‘চ্যাং হ্যাং হং তু’ নামের জাহাজটি মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস অয়েল নিয়ে গত ১৫ মার্চ বন্দরে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে ব্রাভো মুরিংয়ে অবস্থান করছে।জাহাজটি থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন কার্গো খালাস করা হয়েছে। আগামী ১৯ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে সম্পূর্ণ খালাস কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাহাজটি বুধবার মূল বন্দরে ভিড়বে।
অন্যদিকে, ‘এলপিজি সেভেন’ নামের জাহাজটি ওমান থেকে এলপিজি নিয়ে গত ৮ মার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছায় এবং বর্তমানে কুতুবদিয়া এলাকায় অবস্থান করছে। এখন পর্যন্ত জাহাজটি থেকে প্রায় ৭ হাজার ২০ মেট্রিক টন এলপিজি খালাস হয়েছে। ২০ মার্চ ২০২৬ তারিখে জাহাজটির সম্পূর্ণ কার্যক্রম শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী শুক্রবার এটি বন্দরে ভিড়বে বলে জানা গেছে।
বন্দরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোট ২৮টি জ্বালানিবাহী জাহাজের মধ্যে অধিকাংশ ইতোমধ্যে কার্গো খালাস শেষে বন্দর ত্যাগ করেছে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ওমান ও ভারত থেকে আসা এসব জাহাজ এলএনজি, এলপিজি, ক্রুড অয়েল, গ্যাস অয়েল, এইচএসএফও ও বেস অয়েল সরবরাহ করেছে। এ ছাড়া কাতার, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, অ্যাঙ্গোলা, থাইল্যান্ড ও ওমান থেকে এলএনজি, এইচএসএফও ও এলপিজিবাহী আরও কয়েকটি জাহাজ বর্তমানে বন্দরের পথে (প্যাসেজ) রয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব রেফায়াত হামিম বলেন, ‘জ্বালানি খালাস ও সরবরাহ কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নতুন জাহাজগুলোর আগমনের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
