খুলনা-৫ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার নির্বাচনী হলফনামায় জানিয়েছেন, তাঁর বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকার কিছু বেশি। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
৬৭ বছর বয়সী মিয়া গোলাম পরওয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা এম.কম (একাউন্টিং)। পেশা হিসেবে তিনি ব্যবসা উল্লেখ করেছেন এবং আগে শিক্ষকতা করতেন বলেও জানিয়েছেন। হলফনামায় তিনি জানিয়েছেন, তাঁর নামে বর্তমানে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। তবে পূর্বে মোট ৪৮টি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৮টিতে খালাস, ৮টিতে অব্যাহতি, একটি কোয়াশড এবং একটি মামলার রায় হয়েছে। এই ৪৮টির মধ্যে ৪৪টি মামলা সমাপ্ত হয়েছে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে।
আয়ের হিসাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার দেখিয়েছেন, ব্যবসা থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা। এর বাইরে অন্য কোনো আয়ের খাত দেখাননি তিনি। সর্বশেষ ২০২৫ সালে আয়কর দিয়েছেন বলে তথ্য অনুযায়ী আয়ের পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ ৮২ হাজার টাকার কাছাকাছি দেখানো হয়েছে। আয়করের ভিত্তিতে সম্পদের পরিমাণ ৩৭ লাখ ৮১ হাজার টাকার কিছু বেশি দেখানো হয়েছে। তবে নির্বাচনী হলফনামায় তিনি জানিয়েছেন, তাঁর অস্থাবর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য ১৪ লাখ টাকার কিছু বেশি। এর মধ্যে নগদ অর্থের পরিমাণ ৫ লাখ ৯০ হাজার এবং ব্যাংকে জমা আছে ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার অকৃষি জমির মূল্য ২০ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং ভবনের মূল্য ২ লাখ টাকা দেখিয়েছেন। যদিও স্থাবর সম্পত্তিগুলোর অর্জনকালীন মূল্য ২ লাখ ৭২ হাজার টাকা, বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া, তাঁর বা পরিবারের কারও নামে কোনো দায় বা ঋণ নেই। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে জামায়াতে ইসলামী–এর হয়ে জয়ী হওয়া মিয়া গোলাম পরওয়ার নির্বাচিত হওয়ার আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির মধ্যে সন্ত্রাস দমনে ৯০ শতাংশ, ফুলতলা উপজেলার ভূমি উন্নয়ন কর হ্রাসকরণে ৭৫ শতাংশ, রাস্তাঘাট, বাজার, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ৮০ শতাংশ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে ৩৫ শতাংশ অর্জন করেছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

