‘গত এক বছরে কর্মসংস্থান-ব্যবসায় উন্নতি হয়নি’

অর্থ উপদেষ্টা

গত ১১–১২ মাসে কর্মসংস্থান ও ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তাঁর মতে, কর্মসংস্থান স্থবির রয়েছে এবং এতে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও প্রভাব ফেলেছে। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান মূলত বেসরকারি খাতই সৃষ্টি করবে, সরকার কেবল সীমিত পরিসরে চাকরি দিতে পারে। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে আয়োজিত ডিএইচএল–দি ডেইলি স্টার বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাওয়ার্ডসের ২৩তম আসরে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সত্যি বলতে কখনও কখনও সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দূরত্ব থেকে যায়। তবুও আমরা সবসময় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করি। তবে নীতিমালা শুধু জনপ্রিয় ধারণার ভিত্তিতে তৈরি করা সম্ভব নয়। অনেকেই আমাকে কর কমানোর অনুরোধ করেন, আবার কেউ কর বাড়ানোর অনুরোধ করেন, কেউ নগদ প্রণোদনা বাড়াতে বলেন। সবগুলো পূরণ করা বাংলাদেশের সামর্থ্যের মধ্যে পড়ে না। তাই ভারসাম্য রাখতে হয়। তবে আমরা অবশ্যই ব্যবসাবান্ধব হতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি বেসরকারি খাতের উন্নয়নেই ভবিষ্যৎ। অতীতের মতো রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বড় বড় করপোরেশনের যুগ শেষ হয়েছে। এখন ব্যবসায়ীরাই উৎকৃষ্ট কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও তারা অবদান রাখবে।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি মার্কিন চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি আমাকে বলেছেন, মার্কিন বেসরকারি খাত বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে খুশি, তারা দক্ষ। আমি বলেছি, আমরা শেভরন ও মেটলাইফের মতো প্রতিষ্ঠানের বকেয়া প্রায় ৪০ লাখ ডলার পরিশোধ করেছি। এটা আমার ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়, এটা রপ্তানিকারক ও উদ্যোক্তাদের অর্থ দিয়েই পরিশোধ করা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভালো ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এখন এলডিসি উত্তরণ নিয়ে আলোচনা চলছে। আমি বিস্তারিত কিছু বলছি না, তবে ব্যবসায়ীদের বলব আপনারা নিজেদের প্রস্তুত করুন। তারিখ নিয়ে এখনই সিদ্ধান্ত হবে না, কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক হতে হবে। বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং স্থানীয় বাজারের দিকে নজর দিতে হবে। সরকার অবশ্যই নীতিগত সংস্কার, প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং প্রাথমিক সহায়তার মাধ্যমে ব্যবসাকে এগিয়ে নিতে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন, ডেইলি স্টার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, ডিএইচএল এক্সপ্রেস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিয়ারুল হক।