আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রচারণা চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ সময় কোনো বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) যদি গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচি হাতে নেয়, তবে ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে সহায়তা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
রোববার (১১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে সব ব্যাংকের এমডিদের জন্য অনুষ্ঠিত ‘ব্যাংকার্স সভায়’ গভর্নর এ পরামর্শ দেন। বৈঠকে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)-এর চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিনসহ কয়েকজন এমডি বক্তব্য দেন। সভায় দেশের আর্থিক খাতের বিভিন্ন চিত্র উপস্থাপন করা হয়। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নগদ লেনদেনে সতর্ক থাকার বিষয়সহ অন্যান্য পরামর্শ দেন গভর্নর। বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে নির্দিষ্ট বিষয় উল্লেখ না করে বলা হয়েছিল, ‘গভর্নর কর্তৃক সরাসরি উপস্থাপিত হবে’; সেখানে গভর্নর নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছেন বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক এমডি জানিয়েছেন।
গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তের আলোকে গণভোটের বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা সবার দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে কী ধরনের প্রভাব পড়বে– এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে। ফলে কোনো বেসরকারি সংস্থা জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নিলে ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে সহায়তা করার পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তহবিল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ডলার প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনছে। চলতি অর্থবছরের এ পর্যন্ত ৩৭৫ কোটি ডলারের বেশি কেনার বিপরীতে বাজারে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। কোনোভাবে যেন এ অর্থের অপচয় না হয়, সে দিকে সতর্ক থাকতে হবে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট-বিএফআইইউ নগদ লেনদেন তদারকি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এক নির্দেশনায় বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১০ লাখ টাকার বেশি যে কোনো লেনদেনের তথ্য প্রতি মাসের পরিবর্তে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে পাঠাতে হবে। একটি সপ্তাহ শেষ হওয়ার পরবর্তী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ তথ্য দিতে হবে। এতদিন একটি মাস শেষ হওয়ার পর পরবর্তী মাসের ২১ তারিখের মধ্যে তথ্য দিতে হতো। মূলত ভোটে কালো টাকার ব্যবহার ঠেকাতে তদারকি জোরদারের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বৈঠকে গভর্নর বলেন, বৈধ পথে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স অনেক বেড়েছে। যে কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। আবার ডলারের দরও স্থিতিশীল আছে। রজমান ও দুই ঈদেকে কেন্দ্র করে রেমিট্যান্স আরও বাড়তে পারে। তবে কোনোভাবেই যেন রেমিট্যান্সের অপব্যবহার না হয়, সে জন্য সজাগ থাকতে হবে। এ ছাড়া রেমিট্যান্স সংগ্রহে বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসকে কীভাবে লাভজনক করা যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ দেন।
