নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী-এর উত্তরার পাঁচ কাঠার প্লটসহ দিনাজপুরের ২৩.২১ একর জমি ক্রোক করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তার বিভিন্ন ব্যাংকের ৬ হিসাবের মধ্যে থাকা তিন কোটি ১৪ লাখ ৯ হাজার ২৬৩ টাকা, তিন লাখ টাকার একটি এফডিআর, ২ লাখ ৭৮ হাজার ৫০০ টাকার একটি সেভিংস সার্টিফিকেট এবং ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুদকের আবেদনের শুনানি নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ক্রোক আদেশ হওয়া সম্পত্তির মধ্যে দিনাজপুরের ১৮ দশমিক ০৬০৬ জমির মূল্য দেখানো হয়েছে দুই কোটি ৪৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৮৮ টাকা। ৫ দশমিক ১৪৯৪ একর জমি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল মূলে পাওয়ায় মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। উত্তরার পাঁচ কাঠার প্লটের মূল্য দেখানো হয়েছে ৫৬ লাখ টাকা। এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম এ আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, আসামি খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তকালে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর নামে অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর/স্থানান্তর বা অন্য কোন পন্থায় মালিকানা পরিবর্তন/হস্তান্তর করে বাংলাদেশের বাইরে গমন করে আত্মগোপনের সম্ভাবনা রয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর নামে অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজ করা আবশ্যক।
গত বছরের ৮ এপ্রিল দুদকের সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, সাবেক প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে ৫ কোটি ৭৩ লাখ ৮২ হাজার ৬৮৭ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া তার নিজ নামে থাকা ১১টি ব্যাংক হিসাব ও ৫টি কার্ডে মোট ১৩ কোটি ৬৮ লাখ ২৩ হাজার ৫১০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করা হয়েছে। এজন্য আসামির বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪-এর ২৭ (১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫ (২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে, গত বছরের ২৬ জুন একই আদালত খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন।

