বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত সালাম ডেইরি ফার্ম অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজাদ মোঃ সাদেকুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের খাদ্যপণ্যতে বিষাক্ত কেমিক্যাল এবং রং ব্যবহার করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোহাং কামরুল হাসান। একাধিকবার সতর্ক করার পরও সংশোধন না হলে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ওই মামলার প্রেক্ষিতে ১৯ জানুয়ারি গ্রেফতারি পরোয়ানা দিয়েছেন ঢাকার বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ন জেলা ও দায়রা জজ) নুসরাত সাহারা বীথি। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার পাশাপাশি জিএম নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, রাজধানীর সবুজবাগে অবস্থিত সালাম ডেইরি ফার্ম অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস পরিদর্শনের সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে, নাম ঠিকানা ছাড়া প্লাস্টিকের কৌটায় বিষাক্ত কেমিক্যাল এবং রং দিয়ে বিভিন্ন ধরনের খাবার উৎপাদন ও সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি মানদণ্ড ভঙ্গ ও দায়িত্বহীনতার কারণে জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক ক্ষতি সৃষ্টি করছে। প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিও স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। মামলায় আরও উল্লেখ আছে, পূর্বেও একাধিকবার মৌখিকভাবে নাম ঠিকানা ছাড়া কেমিক্যাল ও বিষাক্ত রং ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, তবে সংশোধন করা হয়নি।
শুধু স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নন, ২০২১ সালের ১৮ মে সালাম ডেইরি ফার্ম অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) মনিটরিং অফিসার আসলাম উদ্দীন। তিনিও তখন নোংরা স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে খাবার তৈরি, মিষ্টিতে মাছি এবং অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়ায় খাবার সংরক্ষণ দেখতে পান। বিভিন্ন অনিয়মের কারণে সংশোধনের জন্য ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল।
তবুও সালাম ডেইরি ফার্ম অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস কোনোভাবেই সংশোধনের পথ নেনি। এ বিষয়ে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোহাং কামরুল হাসান জানিয়েছেন, তিনি ইতিপূর্বে তিনবার প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করেছেন এবং একবার মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৬ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তবুও তারা সংশোধন হয়নি। পরিদর্শনে দেখা গেছে, বিষাক্ত কেমিক্যাল ঘি ও মিষ্টিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। নাম ঠিকানা না থাকায় রং-এর সঠিক নাম নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এগুলো পাথরের মতো ভারী ও অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি সময়মতো ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছে।
সালাম ডেইরি ফার্ম অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টসের জেনারেল ম্যানেজার নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে তাদের কোনো তথ্য নেই। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠান থেকে নমুনা পরীক্ষা জন্য নেওয়া হয়েছে এবং ফলাফল জানানো হবে; এরপর আর কিছু জানার সুযোগ হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ব্যবহৃত রংগুলো ফুড গ্রেড, তবে সেগুলোর নাম তাৎক্ষণিক বলতে পারেননি। পরে ফোনে জানানোর কথা থাকলেও তিনি আর যোগাযোগ করেননি। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব খামারের খাঁটি দুধ দিয়ে তৈরি দই, মিষ্টি ও ছানা বিক্রি প্রচারণা চালিয়ে কিছুটা জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সালাম ডেইরি ফার্মের শাখা রয়েছে ঢাকার সবুজবাগ, শান্তিনগর, ডেমরা ও রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায়।
