কোকোলা ফুডস লিমিটেডের শিশু পণ্য ‘দ্য রিয়েল ওয়েফার রোল’-এ ভেজাল প্রমাণীত হওয়ায় এর দায় স্বীকার করে আদালতের মাধ্যমে ৩ লাখ জরিমানা প্রদান করেছে। সোমবার বিষয়টি ডিএসসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের (অঞ্চল-২ ও ৬) নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক (ফুড এন্ড স্যানিটেশন কর্মকর্তা) কামরুল হাসান নিশ্চিত করেন। উক্ত মামলায় বাদীও হয়েছেন তিনি। ডিএসসিসির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত সাহারা বীথির আদালতে এ জরিমানা আদায় করা হয়। মামলায় কোম্পানি মালিক শুক্কুর মিয়াকে আসামি করা হয়েছিল।
কোম্পানিটির পক্ষ থেকে দোষ স্বীকার করে আদালতে দেওয়া আবেদনে বলা হয়, ‘দরখাস্তকারী আসামী সহজ, সরল, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, বাংলাদেশর স্থায়ী নাগরিক এবং কোকোলা ফুড প্রোডাক্টস লিঃ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। কিন্তু বর্তমান বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ব্যবসা দেখতে পারেন না। তিনি অসুস্থ ও বয়স্ক ব্যক্তি। জব্দকৃত কোকোলা দ্য রিয়েল ওয়েফার রোল গুণাগুণ আসামীদেরর পক্ষে যাচাই করা সম্ভব নয় বিধায় সম্পূর্ণ সরল বিশ্বাসে পণ্যটি উৎপাদন করেছেন এবং আসামী অনিচ্ছামূলক কার্যক্রমের জন্য ভুল স্বীকার করছে এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক হওয়ার অঙ্গীকার করছে।’ আদালতে মাধ্যমে জরিমানার ৩ লাখ টাকা পরিশোধের কথাও আবেদনে বলা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক (স্যানিটারী ইন্সপেক্টর) অঞ্চল-২ (খিলগাঁও) কামরুল হাসান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন হতে খিলগাঁওয়ের সাইফান ডিটার্টমেন্টাল স্টোর (১৯৩/এ তিলপাপাড়া) থেকে নমুনা সংগ্রহকারি মো. শেখ মোশারফ হোসেন ও মো. তোফায়েল আহমেদকে নিয়ে ভেজাল/ মানসম্পন্ন নয় সন্দেহে নগদ ১ হাজার ১২০ টাকা দিয়ে ৪ বক্স চকলেট কোকোলা দি রিয়েল ওয়েফার রোল মোড়কজাত প্লাস্টিকের বক্স ক্রয় করেন। সেখান থেকে বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. ফোরকান আহম্মেদের সামনে নমুনাটিকে সমান ৪ ভাগে ভাগ করে সীলমোহর যুক্ত করে একটি অংশ বিক্রেতাকে অপর একটি অংশ ভবিষ্যতে তুলনার জন্য প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বরাবর প্রেরণ করা হয়। অপর দুটি অংশ আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরীক্ষা জন্য পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে খাদ্য বিশ্লেষক ইলিয়াছ জাহেদী ওই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর কোকোলা দি রিয়েল ওয়েফার রোল মান সম্পন্ন নয় বলে সনদপত্র প্রদান করেন। তাৎক্ষনিক বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে নোটিশ প্রধান করা হয়। উক্ত প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ১৮ সেপ্টেম্বর-২০২৫ মো. ফোরকার আহম্মেদ এবং কোকোলা ফুড লিমিটেড-এর ম্যানেজার হারুন অর রশীদ (ডালিম) উভয়ই এসে নোটিশের জবাব প্রদান করেন। মামলায় সংশ্লিষ্ট খাদ্য পণ্যটি শিশুখাদ্য বলে অভহিত করা হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ এর ২৬ ধারা লংঘনসহ একই আইনে ৫৮ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছিল।
