খুচরা বাজারে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী। গত এক সপ্তাহে এই দুই ধরনের চালের দাম কেজিতে তিন থেকে চার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি মুগ ডাল, ছোট মসুর ডাল ও চা-এর দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো—বাজারে অধিকাংশ সবজির দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। ডিম ও মুরগির দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল আছে। খুচরা বিক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাজারে আউশ, আমন ও নাজিরশাইল ধানের চাল আসতে শুরু করেছে এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এসব চালের সরবরাহ আরও বাড়বে। এ পরিস্থিতিতে চালের দাম কমার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বেশির ভাগ চালের দাম উল্টো বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও শেওড়াপাড়া বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বিক্রেতাদের মতে, বাজারে সব ধরনের মিনিকেট চালের দামই বেড়েছে। তাঁরা জানান, বর্তমানে মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল কেজিপ্রতি ৮৩ থেকে ৮৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৮০ টাকা। রশিদ মিনিকেটের দাম কেজিতে ৭২ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। নন-ব্র্যান্ডের মিনিকেট চালের দাম আগে কেজিপ্রতি প্রায় ৬৫ টাকা থাকলেও এখন তা বেড়ে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া দামি মিনিকেট হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল ব্র্যান্ডের চালের দাম কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৮৫ থেকে ৮৬ টাকায় পৌঁছেছে।
বাজারে দেশীয় ও আমদানি করা উভয় ধরনের নাজিরশাইল চাল রয়েছে। গতকাল ধরনভেদে দেশি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হয়েছে ৭২ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে। সপ্তাহখানেক আগে যা ৩-৪ টাকা কম ছিল। আর আমদানি করা নাজিরশাইলের কেজি রাখা হচ্ছে ৭৫-৭৮ টাকা। গত সপ্তাহে এ চালের দাম ছিল কেজিতে ৭২-৭৫ টাকা।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের খুচরা চাল বিক্রেতা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সার্বিকভাবে বাজারে প্রায় সব ধরনের চালের দামই বাড়তি রয়েছে। বছরের এই সময়ে আউশ, আমন ও নাজিরশাইল চাল বাজারে আসে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে খুচরা দোকানে এসব চাল বিক্রি হতে শুরু করবে। সাধারণত প্রতিবছর এসব চাল বাজারে আসার পরে পুরোনো চালের দাম কেজিতে ১-২ টাকা বাড়ে। কিন্তু এবার নতুন চাল বাজারে আসার আগেই পুরোনো চালের দাম ৩-৪ টাকা বেড়েছে। ফলে নতুন চাল আসার পরে পুরোনো চালের দাম আরও বাড়তে পারে।
গতকাল সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে চাল কিনতে যান একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাহিদা বেগম। তিনি জানান, চালের দাম কোনোভাবেই কমছে না। তাঁর ভাষায়, গত মাসে যে দামে চাল কিনেছিলেন, তার তুলনায় এখন কেজিপ্রতি আরও তিন থেকে চার টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চালের মৌসুমেই যদি দাম না কমে, তাহলে আর কখন কমবে—তা বুঝে উঠতে পারছেন না।

