কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, পাশাপাশি বকেয়া ঋণও বৃদ্ধি পাওয়ায় সেগুলো ভবিষ্যতে খেলাপিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে করে সামনের দিনে এ খাতে খেলাপি ঋণ আরও বাড়তে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত মে মাসে বিতরণ করা মোট কৃষিঋণের ৩২ শতাংশই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে, যেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ হার ছিল মাত্র ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। গত অর্থবছর থেকে শুরু হওয়া খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির ধারা চলতি অর্থবছরেও অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষি খাতে খেলাপি ঋণ আদায় ও ব্যবস্থাপনা জোরদারে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, গত মে পর্যন্ত কৃষি খাতে বিতরণ করা মোট ঋণের স্থিতি ছিল ৬৩ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ২০ হাজার ১৩০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট ঋণের মধ্যে ৩২ শতাংশ খেলাপি। গত বছরের একই সময়ে বিতরণ করা মোট ঋণের স্থিতি ছিল ৫৮ হাজার ৩২১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ছিল ৬ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট ঋণের ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ ছিল খেলাপি। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিতরণ করা ঋণের মধ্যে খেলাপি ছিল ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
সূত্র মতে, গত অর্থবছরের আগে কৃষি খাতে বিতরণ করা ঋণের মধ্যে খেলাপির হার ছিল মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ। তবে গত অর্থবছরে তা বেড়ে ৩০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায় এবং চলতি বছরের মে মাসে আরও বেড়ে ৩২ শতাংশে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও দুর্বল তদারকির কারণে কৃষি খাতেও ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ বিতরণ হয়েছে, যার একটি বড় অংশ এখন খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে। এ কারণেই এ খাতে খেলাপি ঋণের হার ক্রমেই বাড়ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃষি খাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পাশাপাশি বকেয়া ঋণের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ না হওয়ায় এসব ঋণ বকেয়া হয়ে এখন খেলাপির পূর্বধাপে অবস্থান করছে; সময়মতো পরিশোধ বা নবায়ন না হলে এগুলোও খেলাপিতে পরিণত হবে। গত বছরের মে মাসে বকেয়া ঋণের স্থিতি ছিল ৯ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের মে মাসে বেড়ে ২৩ হাজার ১০৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। একই সময়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঋণ বিতরণ আড়াই শতাংশ কম হলেও, আগের অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে মোট ঋণ বিতরণ বেড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ বাড়ার বিষয়টি ইতিবাচক। কৃষি অর্থায়ন বাড়ার ফলে এ খাতের প্রবৃদ্ধি ভাল হওয়ার আভাস দিচ্ছে। তবে যেভাবে খেলাপি ঋণ বাড়ছে তার নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এ খাতের খেলাপি ঋণ আদায় ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
