শীতের শুরুতেই বাংলাদেশের দক্ষিণে চরফ্যাশন উপজেলার চর কুকরি-মুকরি ও তারুয়া সমুদ্রসৈকতে তীব্র ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে পর্যটকের ভিড় বেড়েছে। পর্যটকরা এই সৈকতের লোনাপানিতে গোসল করে দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তি ভুলতে আসছেন। পাশাপাশি তারা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের চমৎকার দৃশ্য উপভোগ করতে চাইছেন।
চর কুকরি-মুকরি ও তারুয়া সমুদ্রসৈকত বিস্তীর্ণ শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল এবং অপরূপ প্রকৃতির সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ। বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মোহনায় অবস্থিত এই চর শীত মৌসুমে শত শত পর্যটকের আকর্ষণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে, যারা নদী ও বনভূমির সৌন্দর্য উপভোগ করেন। শীতকালে পর্যটকের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় চরফ্যাশনের উপকূলীয় এলাকার গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এক সময় মানসম্মত আবাসনের অভাবে পর্যটকরা সকাল থেকেই এসে বিকালেই ফিরে যেতেন, তবে গত এক দশকে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে কুকরি-মুকরি ও তারুয়া সৈকতে পর্যটন খাতের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে।
পর্যটকরা বিশ্রাম নিতে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্মিত কোস্টাল ফরেস্ট ডেভেলপমেন্ট সেন্টার বা রেস্টহাউসে অবস্থান করতে পারেন। পাশাপাশি, বেসরকারি উদ্যোগে নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে কয়েকটি ‘হোম স্টে’ স্থাপন করা হয়েছে। আধুনিক পর্যটন সুবিধার সঙ্গে মিল রেখে চর কুকরি-মুকরিতে ওয়াকওয়ে, জিপ ট্র্যাকিং, স্পাইডার ট্র্যাকিং ও ঝুলন্ত ব্রিজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মূল ভূখণ্ড থেকে পুরো চর ঘুরে বেড়ানোর সুবিধার জন্য সরকার বনভূমির মধ্য দিয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন সড়ক নির্মাণ করেছে।
শীতে ভ্রমণপিপাসুদের আগ্রহের মূল কেন্দ্রবিন্দু ভার্জিন বিচ তাড়ুয়া। এখানে যতদূর চোখ যায় দিগন্ত বিস্তৃত সমুদ্রসৈকত। বঙ্গোপসাগরের ঢেউগুলো আছড়ে পড়ে তাড়ুয়ার বুকে। পর্যটকেরা অনেকেই এখানে তাঁবু খাঁটিয়েও থাকতে পারবেন। নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই বলে জানান স্থানীয়রা। তীব্র শীত উপেক্ষা করে ট্রলার ভাড়া করে দলবেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
বেসরকারিভাবে ‘অন্য দ্বীপ থেকে তাড়ুয়ায় আসার সুবিধার্থে চর কুকরি-মুকরিতে সুন্দর একটি বাঁশের জেটি নির্মাণ করা হয়েছে। তাড়ুয়া ছাড়াও চর কুকরি-মুকরিতে আসা পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় আরেকটি পর্যটক স্পট হচ্ছে নারকেলবাগান। চর কুকরি-মুকরি থেকে ছোট নৌকা, স্পিডবোট ও ট্রলারে করে ম্যানগ্রোভ বনের ভেতর দিয়ে ভ্রমণপিপাসুরা চলে যেতে পারবেন নারকেলবাগানে। এখানে আসা পর্যটকেরা সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনের সৌন্দর্যও দেখতে পাবেন। বিকেল কিংবা সন্ধ্যার দিকে বনের ধারে হরিণের দলের দেখা মিলবে।’
উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা আশিস চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, তাড়ুয়া পর্যটক কেন্দ্রের মতোই নারকেলবাগানেও সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে পর্যটকদের জন্য নানা অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। বিশেষভাবে, নারকেলবাগানের দোলনায় বসে নদীর জোয়ার-ভাটার মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায়, যা দীর্ঘকাল মনে রাখার মতো অভিজ্ঞতা। এছাড়া এখানে রয়েছে ছনের তৈরি বিশ্রামকেন্দ্র, পাকা ঘাট, ওয়াচ টাওয়ার এবং বসার স্থান। ভাটার সময় নারকেলবাগানে মাছ ও পোকামাকড় খেতে আসে বক, সিগালসহ বিভিন্ন ধরনের পাখি।

