করমুক্ত আয়সীমা বেড়ে পৌনে ৪ লাখ টাকা

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে পৌনে চার লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বর্তমানে সাড়ে তিন লাখ টাকা। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে এ ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, এই সীমা শুধু ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য নয়, ২০২৭–২৮ অর্থবছরেও বহাল থাকবে। উল্লেখ্য, গত বছরের বাজেটেও তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা বর্তমান বিএনপি সরকার অব্যাহত রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে সীমিত ও মধ্যবিত্ত পরিবার কিছুটা স্বস্তি পাবে।

অন্যবারের মতো এবারও বিশেষ কিছু শ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমায় অতিরিক্ত সুবিধা রাখা হয়েছে। সাধারণ করদাতাদের পাশাপাশি নারী ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী করদাতাদের জন্য করমুক্ত সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে সোয়া চার লাখ টাকা। তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এ সীমা পাঁচ লাখ টাকা, আর গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এ আহত গেজেটভুক্ত যোদ্ধাদের জন্য সোয়া পাঁচ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাতা-পিতা বা আইনানুগ অভিভাবকের ক্ষেত্রে প্রতি সন্তান বা পোষ্যের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ টিআইএনধারী রয়েছেন, যার মধ্যে প্রতি বছর প্রায় ৪০ থেকে ৪২ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দেন এবং করমুক্ত আয়সীমা বিবেচনায় কর পরিশোধ করেন।

৫% কর হার নেই

এবার আয়করের কর হার পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। যেমন– এবার করমুক্ত আয়সীমার পরের প্রথম এক লাখ টাকার জন্য যে ৫ শতাংশ কর আছে, তা বাদ দেওয়া হেয়েছে। যাঁদের বার্ষিক আয় পৌনে চার লাখ টাকার বেশি তাঁদের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা পরবর্তী প্রথম ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকার জন্য ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার জন্য ২০ শতাংশ, পরবর্তী ২০ লাখ টাকার জন্য ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট আয়ের জন্য ৩০ শতাংশ হারে করারোপ করা হয়েছে। এতে করদাতাদের ওপর করের চাপ কিছুটা বাড়তে পারে।

সারা বছর আয়কর রিটার্ন দেওয়া যাবে

আগামী অর্থবছর থেকে সারা বছর রিটার্ন দেওয়া যাবে। আগে দিলে বেশি করছাড় পাবেন করদাতারা। বাজেট প্রস্তাব অনুসারে, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা ২৫ হাজার টাকা, যা কম তাই ছাড় পাবেন। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) রিটার্ন যা কর তাই দিলেই হবে। কোনো প্রণোদনা পাওয়া যাবে না। আর জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ বা ৩ হাজার টাকা, যেটি বেশি সেই পরিমাণ টাকা দিতে হবে। এপ্রিল-জুন মাসে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা ৫ হাজার টাকা, যেটি বেশি সেই পরিমাণ টাকা দিতে হবে।

মানুষের প্রকৃত আয় কমেছে

সর্বশেষ ২০২৩ সালের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা করা হয়েছিল। এরপর আর করমুক্ত আয়সীমা বাড়েনি; কিন্তু গত তিন বছরে মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। প্রতিবছর গড়ে ১০ শতাংশ হারে মূল্যস্ফীতি হয়েছে। এতে যেসব করদাতা করমুক্ত সীমার একটু ওপরে ছিলেন, তাঁদের কর দিতে হচ্ছে। আবার উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে তাঁদের জীবনযাত্রার খরচও বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বা বিবিএসের হিসাবে, সর্বশেষ গত মে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। যা গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।