হাসপাতালে ভর্তি স্ট্রোক রোগীদের ২২ শতাংশের বয়স পঞ্চাশের কম, আর ৩০-এর কম বয়সীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, কম বয়সীরা স্ট্রোক হলে পক্ষাঘাত বা মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকেন। স্ট্রোক প্রতিরোধে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজধানীর নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের স্ট্রোক ইউনিটে এক সপ্তাহ ধরে ভর্তি রয়েছেন অনার্স পড়ুয়া কাজিউল ইসলাম। পাশে ভর্তি রয়েছেন রংপুরের ৪০ বছর বয়সী সুমন মিয়া ও পাবনার ৩৮ বছর বয়সী সবুজ আলী। হাসপাতালের তথ্যমতে, একশ বেডের স্ট্রোক ইউনিটে তিন মাসে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৬৬২ রোগী, যার মধ্যে ৩৮০ জনের বয়স পঞ্চাশের কম। স্ট্রোক সাধারণত বয়স্কদের রোগ হলেও কম বয়সীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের স্ট্রোক ও ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগের চিকিৎসক হুমায়ুন কবীর হিমু বলেন, সুইডিশ কিছু গবেষণায় পেশেন্ট রেজিস্ট্রি আছে, ফিনল্যান্ডে রেজিস্ট্রি আছে। সবগুলো জায়গায় তারা দেখছেন, কম বয়সীরা; এক্ষেত্রে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৪৫ এর কম, এদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকখানি বেড়ে যাচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কম বয়সীর মধ্যে অনেকের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং রক্তে চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে, যা স্ট্রোকের প্রধান কারণ। ধুমপায়ীদের স্ট্রোকের ঝুঁকি সাধারণ মানুষের চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি। চিকিৎসক হুমায়ুন কবীর হিমু বলেন, অস্বাভাবিক জীবনধারা—যেমন যুবকেরা সারারাত জেগে কাজ করে, দিনের বেলা ঘুম—ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়, কারণ এতে শরীরে ক্ষতিকর হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা.জাহিদ রায়হান বলেন, আমরা যে সবজি খাই, তাতে কী ক্যামিকেল ব্যবহার হয় তা আমরা জানি না। ফার্মের মুরগি খাচ্ছি, এদের কী খাবার দেওয়া হয়েছে তা আমরা জানি না। এগুলো শরীরে ঢুকে, মস্তিষ্ক, কিডিন– সবকিছুরই সমস্যা করছে। স্ট্রোকে আক্রান্তদের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৫০ শতাংশের উচ্চ রক্তচাপ, ৩০ শতাংশের রক্তে কোলেস্টরেল ও ডায়াবেটিস।
